সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনে সক্রিয় সব দস্যুকে দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া হবে। অন্যথায় দস্যুদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ২৬টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দু’টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়।
এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে রাত ১১টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন দস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দু’টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত ছিল। জব্দ অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের চলমান সফল অভিযানের কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অপপ্রচারই কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দরবনের সব সক্রিয় দস্যুকে দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া হবে। অন্যদিকে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা, জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করা সম্ভব হবে।
সূত্র : বাসস



