জাপানের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) বাংলাদেশের জন্য ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই ইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ চুক্তিকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।
শফিকুল আলম বলেন, এই ইপিএ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় সাত হাজার ৪০০ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, উৎপাদন ও রফতানি আরো সহজ হবে।
সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি টেমপ্লেট (মানদণ্ড নির্ধারক) হিসেবে কাজ করবে। এ চুক্তিকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা সহজ হবে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদের প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্যের যে ধারা ছিল, সেখান থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য এখন ভিন্ন পথে যাচ্ছে। অনেক দেশ বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দেয়াল তুলছে।
এ প্রেক্ষাপটে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাক্সেস বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করবে এবং শূন্য বা খুব কম শুল্কে বিদেশী বাজারে পণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য জাপানের সাথে এই ইপিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসস



