মামলা জট কমাতে লিগ্যাল এইডকে আরো কার্যকর করতে হবে : আইনমন্ত্রী

‘আমরা সম্প্রতি একটি তথ্য জানলাম, বাংলাদেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এই মামলার জট কমাতে গেলে লিগ্যাল এইডকে আরো কার্যকর করতে হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান |ফাইল ছবি

৪০ লাখ মামলার জট কমাতে গেলে লিগ্যাল এইড’কে আরো কার্যকর করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি একটি তথ্য জানলাম, বাংলাদেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এই মামলার জট কমাতে গেলে লিগ্যাল এইডকে আরো কার্যকর করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়া মানুষের শাশ্বত ও সহজাত অধিকার। আমরা চাই এই লিগ্যাল এইড কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে যাক। আমরা চাই এদেশের মানুষ তার ন্যায়বিচার ফিরে পাক।

তিনি বলেন, আমরা লিগ্যাল এইড কনসেপ্টটা বাংলাদেশে প্রথম পেলাম ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে প্রথম একটা ফান্ড গঠন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তিনি সেখানে কিছু টাকা দেন এবং বলা হলো এই টাকা গরীব-অসহায় মেহনতি মানুষের জন্য ব্যবহার করা হবে। সে টাকা দিয়ে তারা যাতে লিগ্যাল এইড পায়। আমরা আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সেই ধারণাটাকে আরো বিস্তৃত করতে চেয়েছি।

বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বাড়ানো প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে কথা বলেছি। আমাদের বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানো দরকার। আমাদের বিচার বিভাগের জন্য সর্বসাকুল্যে বাজেট বরাদ্দ দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। যেখানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বাজেট জন্য বরাদ্দ দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এই অবস্থা থেকে আমরা উন্নতি চাই। আর লিগ্যাল এইডকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। এই বরাদ্দ আগামী দিনে যাতে বেশি আসে সে কাজ করার জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি চাই আগামী দিন এই লিগ্যাল এইড বাংলাদেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাক এবং বাংলাদেশের মানুষের সেই স্বপ্নের সারথী হিসেবে আমিও তাদের সাথে থাকি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের লিগ্যাল এইডের মামলা পরিচালনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেইসাথে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রচার বাড়াতে গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী জিনাত হক।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন (এমপি), বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: মঞ্জুরুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস