জামায়াত নেতার টাকা জব্দকাণ্ডের হোতা

ভয়ংকর বনজ-মনিরুল সিন্ডিকেটের শেখ জাহিদ এখন নীলফামারীর এসপি

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে লাঞ্চ এবং সর্বশেষ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতাকে টাকাসহ আটকের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শামছুল ইসলাম
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম |সংগৃহীত

শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ করতেন পুলিশের চাকরিচ্যুত ও পলাতক দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও বনজ কুমার মজুমদার। জুলাই অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের হত্যায় অন্যতম ভূমিকা ছিল এই দুই কর্মকর্তার। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই দুই কর্মকর্তাও ভারতে পালিয়ে যান।

এই সিন্ডিকেটের সদস্য পুলিশ কর্মকর্তা শেখ জাহিদুল ইসলাম। পলাতক ভয়ংকর এই দুই কর্মকর্তার সাথে কাজ করে অভ্যুত্থানের পর ভোল পাল্টে এখন নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদ। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে লাঞ্চ এবং সর্বশেষ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতাকে টাকাসহ আটকের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ জাহিদুল ইসলাম ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ২০০৬ সালে যোগদান করেন। ২০২০ সালের ১৮ জুন শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শেখরের সুপারিশে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পান। শেখ হাসিনার গুম-খুনের সহযোগী পুলিশের চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত থাকাকালে তাকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (পিরোজপুর) থেকে তার কাছে নিয়ে আসেন। এসবিতে থাকাকালীন মনিরুলের সাথে জঙ্গি নাটকের মাধ্যমে বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম-খুনের বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন এই কর্মকর্তা।

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এই কর্মকর্তা ভোল পাল্টিয়ে পুলিশের বঞ্চিত একটি গ্রুপের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। নিয়মিত পদোন্নতি ও পিপিএম পদক পাওয়ার পরও বঞ্চিত ওই গ্রুপের সাথে একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। এরপর ওই রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর গত ২৬ নভেম্বর আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তাকে ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারীতে বদলি করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী সদর আধুনিক হাইস্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আরো কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তিনি তার সাথে দুপুরের খাবারও খান। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা প্রার্থী অথবা প্রার্থীর এজেন্ট কিংবা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন বা কোনো ধরনের সুবিধা নিতে পারবেন না। প্রার্থীদের সাথে ছবি তোলা, আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠ হওয়া যাবে না। ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তার কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। এমন ঘটনায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে একটি ব্যাগভর্তি টাকাসহ হেফাজতে নেয় সৈয়দপুর থানা পুলিশ। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ওই ব্যাগে ৫০ লাখেরও বেশি টাকা আছে যা তার গার্মেন্টস ব্যবসার।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাজীব হাসান জানান, কাস্টমসের অনাপত্তি থাকায় তাকে ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে কী পরিমাণ টাকা বহন করতে পারবে তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।