পাসপোর্টের ৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দফতর ও সংস্থায় ২৪ হাজার পদ শূন্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থার মধ্যে পুলিশ অধিদফতরের দুই লাখ ১৫ হাজার ৪১৪টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন দুই লাখ দুই হাজার ২২২ জন। শূন্য রয়েছে ১৩ হাজার ১৯২টি পদ।

শামছুল ইসলাম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থায় বর্তমানে ২৪ হাজার ৩৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের পদ শূন্য রয়েছে দুই হাজার ১১৭টি। দশম গ্রেডের পদ শূন্য দুই হাজার ৮৪৬টি। ১১তম থেকে ১৬তম গ্রেডের পদ শূন্য রয়েছে ১২ হাজার ৪৬৮টি। ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের পদ শূন্য রয়েছে ছয় হাজার ৮৯৭টি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোর মাসিক সমন্বয় সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থার মধ্যে পুলিশ অধিদফতরের দুই লাখ ১৫ হাজার ৪১৪টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন দুই লাখ দুই হাজার ২২২ জন। শূন্য রয়েছে ১৩ হাজার ১৯২টি পদ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫৯ হাজার ৭৩৫টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫৮ হাজার ৩৭ জন। শূন্য রয়েছে ১৩ হাজার ১৯২টি পদ। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩ হাজার ৬৫১টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৮ হাজার জন। শূন্য রয়েছে চার হাজার ৮৩৬টি পদ। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অনুমোদিত পদ রয়েছে পাঁচ হাজার ১০২টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন চার হাজার ১৯৯ জন। শূন্য রয়েছে ৯০৩টি পদ। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের অনুমোদিত পদের সংখ্যা এক হাজার ৪৮০টি পদ। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৯৬০ জন। শূন্য রয়েছে ৫২০টি পদ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমোদিত পদের সংখ্যা তিন হাজার ৫৯টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন দুই হাজার ২২৯ জন। শূন্য রয়েছে ৮৩০টি পদ। কারা অধিফতরের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৪০টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১১ হাজার ৮৭৯ জন। শূন্য রয়েছে এক হাজার ৪৬১টি পদে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৫০টি পদ। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৩ হাজার ৮২৩ জন। শূন্য রয়েছে ৮২৭টি পদ।

অনলাইন ব্যবহারে এগিয়ে মাদক, পিছিয়ে পাসপোর্ট : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দফতর ও সংস্থাগুলোয় ডি-নথি অর্থাৎ অনলাইনে ফাইল নিষ্পত্তিতে এগিয়ে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সংস্থাটি গত নভেম্বর মাসে মোট ৪৭৮টি নথি নিষ্পত্তিতে করেছে। এর মধ্যে ডি-নথিতে নিষ্পত্তি করেছে ৪৪২টি। হার্ডকপিতে নিষ্পত্তি করেছে ৩৬টি নথি। ডি-নথিতে নিষ্পত্তির হার ৯২ শতাংশ। অপর দিকে অধীনস্থ দফতর ও সংস্থাগুলোয় ডি-নথি ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিফতর। এই সংস্থাটি গত নভেম্বর মাসে এক হাজার ৩৩৮টি নথি নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে ডি-নথিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১৬৮টি নথি। হার্ডকপিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এক হাজার ১৭০টি নথি। ডি-নথিতে ফাইল নিষ্পত্তির হার মাত্র ১২.৫৫ শতাংশ। ডি-নথিতে পুলিশের ফাইল নিষ্পত্তির হার ১৬.৬৬ শতাংশ। সংস্থাটি গত মাসে ২৫২টি ফাইল নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে ডি-নথিতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৪টি নথি। হার্ডকপিতে নিষ্পত্তি হয়েছে ২১০টি নথি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডি-নথিতে ফাইল নিষ্পত্তির হার ৬৭ শতাংশ। গত মাসে সংস্থাটি ১২৫টি ফাইলের মধ্যে ৮৪টি ডি-নথি এবং ৪১টি ফাইল হার্ডকপিতে নিষ্পত্তি করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৭৪৬টি ফাইলের মধ্যে ৬২১টি ডি-নথিতে এবং ১২৫ হার্ডকপিতে ফাইল নিষ্পতি করে। সংস্থাটির ডি-নথিতে ফাইল নিষ্পত্তির হার ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডে গত মাসে ৬০২ ফাইলের মধ্যে ২১৪টি ডি-নথিতে এবং ৩৮৮ হার্ড কপিতে নিষ্পত্তি হয়েছে। ডি-নথিতে ফাইল নিষ্পতির হার ৩৫ শতাংশ। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে গত মাসে ২৪৫টি ফাইল নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ডি-নথিতে ২২২টি এবং হার্ডকপিতে ২৩টি ফাইল নিষ্পত্তি হয়েছে। ডি-নথিতে ফাইল নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

পাসপোর্টের তিন হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি : ১৯৭৬-৭৭ থেকে ২০২৫-এর অক্টোবর পর্যন্ত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের অডিট আপত্তি রয়েছে তিন হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। পুলিশ অধিদফতরের দুই হাজার ১৯৪ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। অডিট আপত্তির সংখ্যা এক হাজার ৭৭৩টি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৫৭টি আপত্তিতে ১৩৯টি কোটি টাকার আপত্তি রয়েছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিট আপত্তি রয়েছে ৪৬৮ কোটি টাকার। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অডিট আপত্তি রয়েছে ২১৭ কোটি টাকার। এনটিএমসির অডিট আপত্তি রয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অডিট আপত্তি রয়েছে ২৫ কোটি টাকার। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অডিট আপত্তি রয়েছে ৭৮ কোটি টাকার।