জলাবদ্ধতা অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফল : তথ্য উপদেষ্টা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ঘটনার ব্যাপক প্রচারের কারণে সঙ্কটটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। তবে সরকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাকায় জলাবদ্ধতা
ঢাকায় জলাবদ্ধতা |নয়া দিগন্ত

ঢাকায় সাম্প্রতিক পানি জমে থাকার ঘটনাকে বন্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থের অপচয়ের ফল। একই সাথে এনআইডি সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধান তথ্য অফিসের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকায় যা হয়েছে তা বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। রাজধানীতে অল্প সময়ের জন্যও পানি জমে থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, ‘অনেক প্রকল্পই অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ব্যয় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ কার্যকরভাবে কাজে লেগেছে। বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’

এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেবে। তবে তিনি জানান, যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, সেখানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতে সমস্যা তুলনামূলক সীমিত ছিল।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ঘটনার ব্যাপক প্রচারের কারণে সঙ্কটটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। তবে সরকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, ভুল তথ্য এবং অতিরিক্ত ভোগান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেবেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এনআইডিতে ভুল তথ্য এলে তা সংশোধনের জন্য কেন নাগরিককে ফি দিতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ভুলটি সত্যিই সরকারের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ নেয়া যৌক্তিক নয়। বরং সরকারকেই দায় স্বীকার করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, জরিমানা বা ফি সাধারণত তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়। কিন্তু যেখানে ভুল সরকারি প্রতিষ্ঠানের, সেখানে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান।

এ সময় একজন সাংবাদিক নিজের পরিচিত এক ব্যক্তির এনআইডিতে জন্মস্থান ভুল থাকার উদাহরণ তুলে ধরলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের তথ্যই প্রকৃত সাংবাদিকতার অংশ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং এনআইডি-সংক্রান্ত সেবায় গতি আনতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করবে।

সূত্র : ইউএনবি