বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বর্তমান তথ্যপ্রবাহের জটিল বাস্তবতায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমে জনআস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও সীমাবদ্ধতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারকে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ইউনেস্কো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রোববার (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি’র কনফারেন্স রুমে আয়োজিত আরোচনায় বক্তারা এই অভিমত জানান।
অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, সম্পাদক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘জনআস্থা পুনর্গঠন : বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ, বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত এইচ ই ড রুডিগার লোটজ ও সুইডেন দূতাবাসের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি পাওলা কাস্ত্রো নিডারস্টাম।
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য কেন্দ্র করে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ টেলিভিশন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্টস সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ।
উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জনআস্থা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা জোরদারে গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ অপরিহার্য। পেশাদার সাংবাদিকতা জোরদার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবেলায় সরকার, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. সুসান ভাইজ বলেন, ‘একটি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও পেশাদার গণমাধ্যমই তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা নিশ্চিত করে। বর্তমান তথ্যপ্রবাহের জটিল বাস্তবতায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের বিরাজমান বিভিন্ন কাঠামোগত ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার বিশেষভাবে উঠে আসে।’
ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের আলোকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা জোরদার, পেশাগত মানোন্নয়ন, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম, সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ঘোষিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতিবছর ৩ মে পালন করা হয়। দিবসটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের অবদান স্মরণ করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ।



