ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘বিগত ১৭ বছর দেশে একটি সরকার ছিল। যে সরকারের রেখে যাওয়া কাজ আমাদের শুধু পেছনেই ধাবিত করছে। বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট তারই একটি অংশ। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একটু সময়ের প্রয়োজন, সে সময় পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সঙ্ঘ (বায়েসা)-র আয়োজনে ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা সমৃদ্ধকরণ: বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মতো দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মেধাবী দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নেই। দেশের উন্নয়নে এই মেধাবীদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধান এবং কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসএমআর প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছেন। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যেকোনো গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আনোয়ার হোসেন জনকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনের বিজ্ঞানীদের নিবেদিতপ্রাণভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং সুনির্দিষ্ট আকারে প্রস্তাব প্রেরণ করলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার-এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সঙ্ঘ (বায়েসা)-এর সভাপতি ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ। এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
ড. সাইফুল্লাহ মূল প্রবন্ধে বলেন, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফার ৩০ নম্বর দফায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষণা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাপশক-কে আরো শক্তিশালী, আধুনিক, দক্ষ ও ভবিষ্যৎমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন দেশের পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সেবার একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য, শিল্প, পানিসম্পদ, পরিবেশ, খনিজসম্পদ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও পারমাণবিক বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সাথে বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করবে। এ প্রেক্ষাপটে বাপশকের ওনার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাপাবিলিটি, ইনডিপেনডেন্ট টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট ও স্ট্র্যাটেজিক টেকনিক্যাল ওভারসাইট সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি। ভবিষ্যৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এসএমআর, জ্বালানি চক্র ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাপশককে জাতীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট অর্গানাইজেশন (টিএসও) হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিনিয়োগ।



