ভোলায় ‘উপরের নির্দেশে’গ্রেফতার

নারীকর্মীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারে আল্টিমেটাম সংসদে

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ প্রতিবেদক

জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) মন্তব্য করায় ভোলায় ‘সাওদা সুমি’ নামে জামায়াতের এক নারীকে কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় সদস্যরা এ ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সাওদা সুমি নামে এক নারী ফেসবুকে স্ট্যাটাস শেয়ার করায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। বলা হয়েছে, ‘উপরের নির্দেশে’ তাকে গ্রেফতার ও মামলা দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন—এই ‘উপরের নির্দেশ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?” তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজকের অফিস সময়ের মধ্যেই ওই নারীকে মুক্তি দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটি যদি গণতান্ত্রিক সরকার হয়, তাহলে মানুষ কি কথা বলতে পারবে না?” এ সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা টেবিল সমর্থন জানান।

এ বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকেও বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ায় তিনি তা অবগত আছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “সংসদে বসে রাজপথের মতো আল্টিমেটাম দেয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে প্রস্তাব আকারে বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে।”

স্পিকার আরো বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অনেকেই সরকারকে নিয়ে নানা মন্তব্য করে। সব বিষয় সংসদে তুললে কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তবে যেহেতু বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, আমরা তা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ থাকবে।”

উল্লেখ্য যে, ফেসবুকে জ্বালানি তেল সঙ্কট ও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার অভিযোগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা দেয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ওই নারীর তিন বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়টি সামনে আসায় সাধারণ মানুষ একে অমানবিক হিসেবে দেখছেন।