মশক নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ডিএসসিসির, কাল থেকে শুরু

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মশা নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে আগামীকাল থেকে ১০ দিনের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করছে। অবহেলা বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি সভা
নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি সভা |সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো: আব্দুস সালাম। মশা নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল রোববার থেকে ১০ দিনের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি ডিএসসিসি এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসকের নির্দেশে এই বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা, ব্যর্থতা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

তিনি জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল থেকে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে, যেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

সভায় মশক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং বর্তমান ওষুধের বিকল্প হিসেবে নতুন কার্যকর ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো স্থাপনায় মশার উৎপত্তিস্থল পাওয়া গেলে এবং বারবার সতর্ক করার পরও ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম, করপোরেশন সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো: মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।