বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল প্রসঙ্গে পিবিআই’র ব্যাখ্যা

ধানমন্ডি থানার মামলা

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নম্বর—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ) ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদের শিরোনামটি ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) |সংগৃহীত

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সকল মামলা আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর (সাধারণ নিবন্ধন) মামলায় চার্জশিট এবং ৬৭টি সিআর (ফৌজদারি) মামলায় প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হয়েছে।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নম্বর—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ) ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদের শিরোনামটি ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ শরিফ (৩৭), পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা–ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো: সাহেদ আলী (২৭), পিতা— মো: কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবাগ, ঢাকাসহ শুধুমাত্র নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরো নয়জনের শুধুমাত্র নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭-এর মিনা বাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ০৪/০৮/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১টায় উল্লেখ করেন। আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলী তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেন নাই এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নয়। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নাই। ভিকটিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সাথে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ এর অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লেখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয় নাই।

বাদীকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করে এবং সরাসরি বাদীর সাথে সাক্ষাৎ করে যেকোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেন নাই। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেন নাই। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটে নাই মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটি চূড়ান্ত রিপোর্ট তথ্যগত ভুল দাখিল করা হয়।