মৎস্য খাতে অবদানের জন্য পদক পাচ্ছেন ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

‘এ বছরও জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা অনুযায়ী মৎস্য খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতটি ক্ষেত্রে মোট ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পদক পাচ্ছেন ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
পদক পাচ্ছেন ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান |সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা অনুযায়ী মৎস্য খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতটি ক্ষেত্রে মোট ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হবে।

মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক প্রদান করবেন।

মৎস্য সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশী মাছে দেশ ভরি’।

আগামীকাল থেকে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে সোমবার (২১ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়ের অর্জন বিষয়ে ফরিদা আখতার জানান, ‘মৎস্য সপ্তাহ পালনের মধ্য দিয়ে আমরা মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরতে চাই। এ খাতে দেশের মোট জিডিপির দু’ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২২.২৬ শতাংশ। বছরে ৫০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। বারো লাখ নারীসহ প্রায় দু’ কোটি অর্থাৎ মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশের বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সাথে সম্পৃক্ত। আমিষের চাহিদা মেটানোর দিক থেকেও মাথাপিছু দৈনিক ৬০ গ্রাম গ্রহণের বিপরীতে মাছের প্রাপ্যতা ৬৭.৮০ গ্রামে উন্নীত হয়েছে। তবুও মাথপিছু মাছ গ্রহণ আরো বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণালব্ধ, বিজ্ঞান ভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব মৎস্য আহরণ, মৎস্য চাষ এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ অন্যান্য বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ও এর টেকসই ব্যবস্থাপনার দৃঢ় প্রত্যয়ে আমরা এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্যাপন করতে যাচ্ছি।’

মাছের প্রজাতিগত ও কৌলিকতাত্ত্বিক (জেনেটিক) বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, জলজ পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ ও দেশী মাছের নিরাপদ প্রজনন ও আবাসস্থল নিশ্চিতকরণ, জলাশয়ে টেকসই উৎপাদন, পুনরুদ্ধার এবং সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে এবং উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ‘মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে গৃহীত বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতা পুন:প্রতিষ্ঠাকল্পে এ বছর ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিন (১৫ এপ্রিল হতে ১১ জুন) সমুদ্রে সকল প্রকার নৌযান মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, মা ইলিশ ও জাটকাসহ অন্যান্য মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকার ভিত্তিতে ভিজিএফ (চাল) প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৯টি জেলে পরিবারকে মোট এক লাখ চার হাজার ৬৬২.৬৭৫ টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সহায়তা দেয়া পরিবার প্রতি চালের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দাদনের দুষ্টচক্র থেকে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মুক্ত করার লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো: তোফাজ্জেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মো: ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুর রউফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাসস