শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইনের ঘোষণা পরিবেশ অধিদফতরের

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতার জন্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং একইসাথে প্রত্যাশা করা হয়, যেহেতু শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক সার্জেন্টদেরকে ঘটনাস্থলে জরিমানা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ছবি : নয়া দিগন্ত

পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র আয়োজনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ কর্মদিবস মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোছা: মোহছনা আকতার বানু এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এই সমস্যার সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শব্দদূষণ বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সরকার পরিবেশ অধিদফতরের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনগণ সচেতন হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা মেনে চলবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন এবং ক্যাম্পেইনের সফলতা কামনা করেন। গ্রিন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদফতরের ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে, আমরাও গ্রিন ভয়েসের সদস্যরা সহযোগিতা করছি। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে আমাদের পরিবেশটাকে দূষণমুক্ত রাখি এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি শব্দদূষণমুক্ত বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাই।

আরো বক্তব্য রাখেন ডিএমপির পল্টন জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট খলিলুল্লাহ। এ সময় অন্যানের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: ফজলে এলাহী এবং ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান।

প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন শেষে জনগণের মধ্যে শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে একটি র‌্যালি প্রেসক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে শব্দদূষণ সম্পর্কিত নানান সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে সাজানো একটি পিকআপ ভ্যান, বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন এবং কাঠবিড়ালী আকৃতির একটি মাস্কট মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট-আজিমপুর, নিউমার্কেট, আগারগাঁও, পরিকল্পনা কমিশন মোড়, বাংলাদেশ সচিবালয়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল মোড়, গুলশান-২ চত্বর, টিএসসি ইত্যাদি স্থানে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র আয়োজনে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক পুলিশ ও গ্রিন ভয়েসের সহযোগিতায় এই ক্যাম্পেইন টানা দশ কর্মদিবস চলবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দেড়শতাধিক সদস্য দশটি পয়েন্টে বিভক্ত হয়ে এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতন করার পাশাপাশি আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের সামনের রাস্তায় পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

সেই সাথে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক সার্জেন্টকে ঘটনাস্থলেই জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এই ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়ে তারাও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মানমাত্রা অতিক্রমকারী যানবাহনকে জরিমানা করে।

তরুণ শিক্ষার্থী ভলান্টিয়ার ছাড়াও নানান শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’, ‘নো হর্ন, শব্দদূষণ শ্রবণ শক্তি নষ্ট করে, শব্দদূষণ বহুবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ ও আসুন, অযথা হর্ন না বাজাই।’ এরকম বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন এবং ব্যানার নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করাই এই আয়োজনের লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানান। এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন যানবাহনে অযথা হর্ন না বাজানোর স্লোগান সম্বলিত স্টিকার লাগানো হয়, একইসাথে পথচারী ও গাড়ি চালকদের মাঝে শব্দদূষণের বিভিন্ন তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতার জন্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং একইসাথে প্রত্যাশা করা হয়, যেহেতু শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক সার্জেন্টদেরকে ঘটনাস্থলে জরিমানা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।