ঢাকার বেইলি রোডে পাহাড়ি ফল মেলা উদ্বোধন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ মেলা শনিবার থেকে সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন |নয়া দিগন্ত

রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এ মেলার উদ্বোধন করেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হেসেবে উপস্থিত থেকে তিনি তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ মেলা শনিবার থেকে সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মোট ৩০টি স্টল রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে সাজানো হয়েছে পাহাড়ের সুস্বাদু মৌসুমী ফল আম, আনারস, কাঁঠাল, কলা থেকে শুরু করে দুর্লভ বুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনো বেলের মতো বাহারি ফলের সমাহার।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ফল মেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এ মেলা পার্বত্য অঞ্চলের ফল-ফসল, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি মাধ্যম।

তিনি বলেন, পাহাড়ের কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে প্রতিটি উপজেলায় পরিবেশবান্ধব ইকো-ফ্রেন্ডলি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃষিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। সরকারি বার্ষিক তহবিল থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এগুলো নির্মাণ করা সম্ভব। এসব কোল্ড স্টোরেজ ২০ থেকে ২৫ জন প্রান্তিক কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত সমবায় বা কো-অপারেটিভের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গামাটিতে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এর মাধ্যমে বায়ার ও সেলারদের যুক্ত করে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বা এ ধরনের দেশের মতো উদ্বৃত্ত ফলকে ড্রাই ফ্রুটস বা শুষ্ক ফলে প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কফির গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। ঢাকার জনপ্রিয় বিভিন্ন কফিশপে এখন পার্বত্য কফি বিক্রি করা হচ্ছে। কফি চাষ সম্প্রসারণে আরো প্রণোদনা দেয়া হবে। একই সাথে জুম চাষকে আরো বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক করতে জুমচাষীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা (অবসরপ্রাপ্ত), রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা মনে করছেন, এ মেলা কেবল ফল কেনাবেচার আসর নয়, বরং তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফলের বাজার সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা ও উৎপাদকদের মধ্যে এ মেলা একটি টেকসই সেতু বন্ধন তৈরি করবে। একইসাথে এ মেলা শহুরে মানুষের জন্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্রময় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

মেলা চলাকালে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা তিন পার্বত্য জেলার নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগের সুযোগ পাবেন।