লেখক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গত সপ্তাহে তিনি বাসায় ফেরেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার সকালে আবার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বদরুদ্দীন উমর একজন খ্যাতিমান লেখক, গবেষক ও বামপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৬১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পিপিই ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৮ সালে গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধিতা করে তিনি শিক্ষকতা ত্যাগ করেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতি ও লেখালেখিতে যুক্ত হন। তার প্রথম গবেষণাগ্রন্থ ছিল পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে।
রাজনীতিতে তিনি বাংলাদেশের কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একসময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে নতুন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রভাবশালী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা। ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে তার রচিত গ্রন্থগুলো মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ে সাংস্কৃতিক চেতনা গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এবং স্বাধীনতার আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করে।


