মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি চোরাইপথে আনা পশু নয়, বরং বৈধ উৎস হতে শরিয়ত সম্মতভাবে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গাবতলী পশুর হাটে আয়োজিত কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ বা চোরাইপথে আসা পশু কোরবানির উপযোগিতা সম্পর্কে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও মুফতিরাই সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে, এক্ষেত্রে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব যে আপনারা বৈধ উৎস থেকে কোরবানির পশু কিনবেন।
তিনি আরো বলেন, কোরবানি দেয়া হয় আল্লাহর খুশির জন্য। তাই কোরবানি যাতে সহিহভাবে ও হালাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বছর কোরবানির হাটে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, জ্বর পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে পশুর যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ গবাদিপশু, সেখানে দেশে এবারের কোরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এ পরিস্থিতিতে বাহিরে থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
হাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করা, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা রোধে সরকার সতর্ক রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, অধিদফতরের পরিচালক ডা. মো: বয়জার রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস



