সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (সিভিল) অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন পারভীনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহা. রায়হান কাওসারকে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মো: মোখতার আহমেদ কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আই এম ই ডি) সচিব,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) ড. মো: নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) (চুক্তিভিত্তিক), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব), স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব পদে বদলি পূর্ব পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া এস এম এবাদুর রহমানকে এক বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার সেই গণরায়কে উপেক্ষা করছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথাও আমরা জানতে পেরেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের গণমানুষের ম্যান্ডেটকে এভাবে উপেক্ষা করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছা সংবিধানের চেয়ে বড়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়। তাই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চক্রান্ত চলছে, যা শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও নিজের অতীত থেকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অতীতে সংস্কারের পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, দুঃখজনক হলেও তার দল সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছে, তিনি সেই অবস্থানে ফিরে এসে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন।’
শিক্ষাখাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা একটি উন্নত, মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। তরুণ প্রজন্ম এখনো তাদের প্রাপ্য শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘ "দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা নেই। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। চাঁদা না দিলে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। র্যালিটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
সূত্র : বাসস



