প্রজ্ঞা-আত্মার আলোচনায় বক্তারা

এসডিজি অর্জনে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বড় বাধা

‘তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তা এসডিজি অর্জনের পথকে সুগম করবে।’

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রজ্ঞা-আত্মার আলোচনা সভা
প্রজ্ঞা-আত্মার আলোচনা সভা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিন পণ্য। শক্তিশালী আইন এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন ব্যতীত অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সংক্রান্ত এসডিজি অর্জন কঠিন। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি এসডিজি বিষয়ক কৌশলগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি : বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা এই অভিমত জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপনায় জানানো হয়, দেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে, যা এসডিজির স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য-৩ অর্জনে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করছে। দারিদ্র্য নির্মূল, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি, মানসম্পন্ন শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচ্যিত্র সংরক্ষণসহ এসডিজির প্রায় সবগুলো লক্ষ্য অর্জনে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে তামাক। অতিসম্প্রতি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ ইমার্জিং টোব্যাকো ও নিকোটিন পণ্য আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক্ষেত্রে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। স্বাস্থ্যক্ষতি বিবেচনায় বিশ্বের বহুদেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বৈঠকে দ্রততম সময়ের মধ্যে সদ্য পাসকৃত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন এবং কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে আইন সুরক্ষায় এফসিটিসি-এর আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের তাগিদ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তা এসডিজি অর্জনের পথকে সুগম করবে।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা: গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের কষ্ট আমাদের চোখের সামনে তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। তামাকের ছোবল থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘এসডিজি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরো বেশি খবরাখবর প্রকাশ করতে হবে।’