মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার আলোকবর্তিকা, রণাঙ্গনের অসীম সাহসী যোদ্ধা, অদম্য দেশপ্রেমিক নেতা, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তার সাহস ও দক্ষ নেতৃত্ব আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে একতাবদ্ধ হয়ে একটি পরাধীন জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে।
রাওয়া আয়োজিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মরণিকায় প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বাণীতে এ কথা বলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বাণীতে সেনাপ্রধান বলেন, জেনারেল এম এ জি ওসমানী তার দেখানো আদর্শ ও মূল্যবোধ লালন করে আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের ভূখণ্ডের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে সমগ্র বিশ্বের মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আস্থার প্রতীক হিসেবে রূপ নিয়েছে।
ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন দুঃসাহসী সেনা অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাজ করেছেন একাধারে তিনটি দেশের সেনাবাহিনীর অফিসার হয়ে। ১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেজর ছিলেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি হয়েছিলেন একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
আজ জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী, আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি তার সমৃদ্ধময় বর্ণাঢ্য জীবনকর্মকে। জেনারেল এম এ জি ওসমানী শুধুমাত্র একজন সেনাপ্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে সেনাপতিরূপে এক অনুপ্রেরণা। আমার বিশ্বাস তার ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং অবদান বাঙালি জাতির সকল সঙ্কটে মুক্তির উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে কাজ করবে। জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কর্মময় জীবন আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অমর এবং আমরা তার কর্ম ও ত্যাগের পথে চলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তার সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং দেশপ্রেম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য নির্দেশনা হিসেবে থাকবে।
জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন এই মহান দেশপ্রেমিককে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সহায় হোন।



