২ বছরের মধ্যেই ঢাকার চেহারা বদলে দেয়ার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

‘ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট নিয়ন্ত্রণ-এ সবই সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এককভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষে এটি সম্ভব নয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম |সংগৃহীত

ঢাকা শহরকে ফুল, গাছ এবং আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বসবাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।’

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এক সময় দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় এসটিএস নির্মাণে অনেকে আপত্তি জানাতেন। কিন্তু আধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে এখন এসব স্থানে দুর্গন্ধ দূর করে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএস-কে পরিবেশবান্ধব ও সুন্দর রূপে রূপান্তর করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এসটিএস-ই একইভাবে আধুনিকায়ন করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেয়া হবে।’

নগর উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট নিয়ন্ত্রণ-এ সবই সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এককভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষে এটি সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নিয়মিত তদারকির ফলে নগর উন্নয়নের কাজে নতুন গতি এসেছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, পার্ক, খাল ও নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকার প্রধান নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন এবং দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। এতে কাজ অনেক সহজ হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিএসসিসির প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। তিনি নগরবাসীকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি না জমতে দেয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও সুবিধা বিবেচনায় প্রতিটি হাটে কন্ট্রোল রুম, জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টহল থাকবে।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ইজারাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব পূর্ণ প্রস্তুতিও রয়েছে। ঈদের দিন এবং আগের রাত থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। কোরবানি শেষে আট ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস