জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো সময়ের দাবি : হুইপ দুলু

জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস দুলু বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা বেড়ে ২০ কোটির বেশি হওয়ায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও সেবা নিশ্চিত করতে সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো সময়ের দাবি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু |সংগৃহীত

জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

তিনি বলেছেন, ‘যখন দেশে ৩০০ আসনের সংসদ গঠন করা হয়েছিল, তখন জনসংখ্যা ছিল সাড়ে তিন কোটি। এখন জনসংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি। সেই অনুপাতে সংসদ সদস্য সংখ্যা বাড়ানো উচিত। জনগণের প্রতিনিধিত্ব আরো বিস্তৃত করতে এটি সময়ের দাবি।’

জাতীয় সংসদ ভবনে হুইপের কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে বাসস।

হুইপ দুলু বলেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ রায় দিয়েছে। মানুষ শান্তি ও উন্নয়নের রাজনীতি চায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আর ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। গত ১৭-১৮ বছর ধরে যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মস্তানি, নির্যাতন ও দখলদারির রাজনীতি চলেছে। এবার জনগণ অনেক আশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। সেই প্রত্যাশা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

রুহুল কুদ্দুস দুলু বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার সংসদকে প্রাণবন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসাথে কাজ করলে সংসদীয় গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে বলেও দাবি করেন।

জাতীয় সংসদের এই হুইপ আরো বলেন, ‘আমাদের ভুল থাকলে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তা তুলে ধরবেন। আমরা সংশোধন হব। যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হই, আগামী নির্বাচনে মানুষ আমাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শান্তি, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের দিন থেকেই আমার কারাজীবনের শুরু। এরপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত তা বিভিন্ন সময়ে চলেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘খুব কম বয়সে এমপি হয়েছিলাম। তখন মনে করতাম, পার্লামেন্টই দেশের প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই দেশ পরিচালিত হবে। কারণ ৩০০ সংসদ সদস্যই দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি।’

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ সীমিত ছিল অভিযোগ করে হুইপ দুলু বলেন, ‘তখন আমরা কথা বলতে পারতাম না। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়া হতো। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর আজ মানুষ ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে।’

নাটোর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ছাত্র, শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আত্মত্যাগ না হলে গণতন্ত্র আর ফিরে আসত কি না, তা বলা কঠিন।’

সংসদ পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে অ্যাডভোকেট দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন সরকারি দলের কোনো আচরণে বিরোধী দলের সদস্যরা কষ্ট না পান বা সংসদ বর্জনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। সংসদীয় গণতন্ত্র যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দু’মাসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যেভাবে সংসদ পরিচালনা করেছেন, তাতে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্র : বাসস