তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, চলচ্চিত্র বা অভিনয়সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মেধাবীদের খুঁজে পেতে শিগগিরই ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) যৌথভাবে এ কাজ করবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএফডিসি প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার এফডিসি’র হারানো গৌরব ও স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফডিসি’র আয় বৃদ্ধি ও চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক আধুনিকায়নে সরকার নানামুখী বাস্তবসম্মত ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, এফডিসি’র বিদ্যমান নীতিমালায় পেনশন সুবিধা না থাকায়, দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুইটির অর্থই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একমাত্র সম্বল। অতীতে এই পাওনা টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করা হলেও, বর্তমান সরকার সেই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। অবসরপ্রাপ্তরা যেন এই অর্থ ভালোভাবে কোথাও বিনিয়োগ করে সম্মানের সাথে জীবন নির্বাহ করতে পারেন, সেজন্য এবার পুরো টাকা এককালীন পরিশোধ করা হচ্ছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে তহবিলে কিছুটা অর্থসঙ্কট থাকলেও, পর্যায়ক্রমে পরবর্তী বছরগুলোতে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনাও দ্রুত পরিশোধ করা হবে।
এফডিসি’র আয় বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’-এর নির্মাণ কাজ শেষ করে এটি চালু করা হবে, যা হবে এফডিসির আয়ের অন্যতম বড় উৎস। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের পেছনের খালি জায়গায় একটি আধুনিক ‘মিনি মার্কেট’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের কবিরপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হচ্ছে, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর পাশাপাশি এফডিসি’র সকল ভূসম্পত্তির সর্বোত্তম বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে একে পুনরায় একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জোর প্রচেষ্টা চলছে।
চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়নে সরকারের বৈপ্লবিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযোজকদের লগ্নি করা টাকার স্বচ্ছতা ও স্বার্থ রক্ষায় অচিরেই ‘ই-টিকেটিং এবং সেন্ট্রাল সার্ভার’ স্থাপন করা হবে।
এফডিসিতে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণযন্ত্রাদি নিশ্চিতকরণ ও পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওগুলোকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
একই সাথে গ্রাহকদের হয়রানিমুক্ত ও দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘বিজনেস অটোমেশন ব্যবস্থা’ চালু করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
চলচ্চিত্রের নতুন প্রতিভা অন্বেষণ প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রী ও দক্ষ কলাকুশলীদের মূল ধারার চলচ্চিত্রে তুলে আনার লক্ষ্যে সরকার ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব বাস্তবমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিএফডিসি তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে এবং এই প্রাঙ্গণ থেকেই আবারো কালজয়ী ও বিশ্বজয়ী সব চলচ্চিত্র নির্মিত হবে।
এফডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা মানুষের পাওনা আমরা ধারাবহিকভাবে পরিশোধ করছি। আগে মানুষ টাকা পেত ধাপে ধাপে। এখন আমরা একসাথে টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
তিনি আরো বলেন, আর মাত্র ৪৯ জন মানুষের পাওনা পরিশোধ করতে পারলেই মানুষের দীর্ঘদিনে যন্ত্রণা লাঘব হবে।
মাসুমা রহমান তানির সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো: শাহ আলম, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আহমেদ, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পদাক জিএম সাঈদ, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অভিনেতা হেলাল খান, গায়ক সাজ্জাদ হোসেন পলাশ, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থালেদ এনাম মুন্না ও চিত্র পরিচালক মো: শাহীন প্রমুখ। বাসস



