জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং পুষ্টি খাতে সমন্বিত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাথে সাবসিডিয়ারি ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের পক্ষে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং অর্থ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব নাজনীন সুলতানা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)। প্রকল্পটি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী বাস্তবায়িত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের হার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং কৃষি সম্ভাবনার ভিত্তিতে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকা বন্যা, খরা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও অন্যান্য জলবায়ুগত ঝুঁকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, সেসব অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে প্রকল্পের আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপকারভোগীদের মধ্যে থাকবেন দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, যুব উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবার এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা।
‘গ্রিন’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। একইসাথে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও সহায়তা করা হবে।
এছাড়া প্রকল্পটি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প দেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসাথে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে। বাসস



