আমিনুল হক

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হবে

শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে পড়াশোনা ভয়ের বিষয় না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক |নয়া দিগন্ত

জাতীয় শিক্ষাক্রমে আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বিষয়ে পৃথক পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে। একই সাথে বিতর্ক, কোরআন তেলাওয়াত, সংগীত, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার অংশ করা হবে।

সোমবার সকালে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে পড়াশোনা ভয়ের বিষয় না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, 'আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল একটি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। খেলাধুলার ওপর লিখিত পরীক্ষা থাকবে, পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেয়া হবে।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকবে। একই সাথে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকেও তাদের দূরে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, রাজধানীসহ সারাদেশে খেলার মাঠের সঙ্কট দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যেখানে খালি সরকারি জমি থাকবে, সেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, 'প্রতিদিনের পাঠদানের শুরুতে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করুন। একজন শিক্ষার্থী বড় ডিগ্রি অর্জন করলেও যদি তার মধ্যে সততা, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ না থাকে, তবে সেই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য থাকে না।'

তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাই শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'কোনো উসকানিতে বিভ্রান্ত হবে না। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই বাবা-মা ও শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করবে। তোমরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই ভুল পথে পরিচালিত না হয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।'

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই বরাদ্দ যেন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কল্যাণে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ মইনুল হক এবং বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ইসহাক হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা।