মোনাকোতে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সম্মেলনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ

সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহত্তর কৌশলগত উদ্যোগের প্রতিফলন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) ৪র্থ সম্মেলন গত ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল মোনাকোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি এবং নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।

সম্মেলনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার শীর্ষ পদগুলোর নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও বাংলাদেশ স্বক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা ও হাইড্রোগ্রাফিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা আরো সুসংহত হয়েছে।

প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার অধিবেশনটি আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমে বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলগত দিক-নির্দেশনা প্রণয়ণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের অধিবেশনে নটিক্যাল চার্ট প্রণয়নের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ অধিবেশনে পরবর্তী প্রজন্মের হাইড্রোগ্রাফিক মানদণ্ডে রূপান্তর, বিশেষত এস-১০০ ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় জরিপ পদ্ধতিসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়টি আলোচিত হয়।

এ ছাড়া হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য বিনিময়, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহত্তর কৌশলগত উদ্যোগের প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের ২৪তম সভায় বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।