ঈদে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা : উপদেষ্টা

প্রত্যেক লঞ্চ বা ঘাটের নির্ধারিত স্থানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার রেট চার্ট প্রদর্শন করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন |ইন্টারনেট

আসন্ন ঈদে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ঈদের সময় যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে প্রায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদে এ ধরনের অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নৌ-চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ কর্মপন্থা গ্রহণ বিষয়ক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

উপদেষ্টা বলেন, ঈদযাত্রায় ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী বহনের কোনো অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক লঞ্চ বা ঘাটের নির্ধারিত স্থানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার রেট চার্ট প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহার আগে তিন দিন এবং পরের তিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে।

এছাড়া নৌ-পথে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং উদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য উদ্ধারকারী জলযান প্রস্তুত থাকবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যাত্রী সাধারণের নিরাপদ চলাচল সব নদীবন্দর, টার্মিনাল ও ঘাটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসকগণ টাস্কফোর্স গঠনপূর্বক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, দূরপাল্লাগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারজন করে আনসার সদস্য নিয়োগের জন্য মালিক পক্ষকে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে কোনো দুর্ঘটনা সংগঠিত হলে মালিকপক্ষ দায়ী থাকবে। লঞ্চে বা ফেরিঘাটে কর্মরত স্টাফদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম এবং আইডি কার্ড থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, বরিশালের মেঘনা নদীসহ যে সব অপরাধপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিশেষ টহল থাকবে।

৩০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্মুক্ত রাখতে হবে বলে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কোনোভাবেই রাস্তার ওপরে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনী বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবে। প্রয়োজনে রেকার দিয়ে অভিযুক্ত বাসগুলোকে সরিয়ে দিতে হবে। ঈদকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং শেষে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস