সরকার মিডিয়ার সাথে কোনো ধরনের শত্রুতা বা সঙ্ঘাতে যেতে চায় না। বরং দেশে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও ভাইব্রেন্ট গণমাধ্যম ব্যবস্থা আবার গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেকে খুব স্ট্রংলি সরকারের যেকোনো ধরনের যৌক্তিক সমালোচনা চালু রাখবেন। আগে যে জায়গায় মিডিয়া চলে গিয়েছিল, সেই জায়গা থেকে মিডিয়াকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। যে সরকার আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তার তো মিডিয়ার সাথে কনফ্লিক্টে যাওয়া স্টুপিডিটি। আগামী বছরে বাংলাদেশ মিডিয়া ও প্রেস ফ্রিডম পরিস্থিতিতে আরো ভালো করবে। আমি এই দেশে থাকতে চাই এবং একটি দুর্দান্ত ভাইব্রেন্ট মিডিয়া আবার তৈরি হতে দেখতে চাই।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই মাস পার হয়েছে। তাই মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সংস্কার ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে আরো কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা আশা করি, একটি ভিন্ন বিটিভি হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও কথা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন।
স্কুল পর্যায়ে মিডিয়া লিটারেসি জরুরি জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, স্কুল কারিকুলামে মিডিয়া লিটারেসি যুক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।
ঢাকা কেন্দ্রিক এনজিও কার্যক্রমের প্রবণতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা কেন্দ্রিক কাজ করার প্রবণতা একটু বেশি থাকে। অথচ মিডিয়া লিটারেসির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্রত্যন্ত এলাকায়। সরকার এ বিষয়ে পার্টনারশিপ চায়। এসময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে রিমোট এরিয়াগুলোতে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মূলধারার গণমাধ্যমেও ফটোকার্ডের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো এডিটোরিয়াল নীতি না থাকলেও এখন মূলধারার গণমাধ্যমেও ফটোকার্ডের মাধ্যমে মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ম্যাল ইনফরমেশন ছড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আমি নিজেও এটার শিকার হচ্ছি। আমাকে নিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমাদের খেয়াল রাখা দরকার।
সাংবাদিকদের যোগ্যতা নির্ধারণ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার একটি নীতিমালা করতে পারে, তবে সেটি ইম্পোজ করার মতো কিছু হবে না। কারণ সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা ছাড়াও দেশে অনেক গুণী সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক রয়েছেন।
তিনি বলেন, মিডিয়া রিফর্মস কমিশনের সাথে সরকার দ্রুত বসবে এবং যেসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরও সদিচ্ছার অভাব নেই বলে জানান তিনি।
সূত্র : বাসস



