প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে কোনো সমাজেই ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ, বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষ বা ইসলামবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের একটি শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে- যেখানে সর্বস্তরে সহনশীলতা, অহিংসা, সংলাপ ও সহযোগিতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করা হবে। গত সাড়ে তিন দশক ধরে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আমাদের অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের এক বাস্তব প্রমাণ। এমনকি এই মুহূর্তে প্রায় ছয় হাজার বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী বিশ্বের সবচেয়ে সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে জাতিসঙ্ঘের আওতায় দায়িত্ব পালন করছেন। আজ পর্যন্ত মোট ১৬৮ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী তাদের দায়িত্বপালনকালে শহীদ হয়েছেন।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘একাধিক গবেষণায় এ কথা বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম অন্য যেকোনো একপক্ষীয় শান্তিরক্ষা উদ্যোগের তুলনায় অধিক টেকসই ও কার্যকর। বিশ্বের শান্তি রক্ষাকারী এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা রক্ষায়-আমরা জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা অভিযানের জন্য স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করবার দাবি জানাই। শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।’
‘দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুভাষিকতাকে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করে, কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরো গভীর করে।’
একবিংশ শতাব্দীতে কোনো সমাজেই ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ, বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষ বা ইসলামবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানো হয়েছে, যা এখনো চলমান রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পরিকল্পিত মিথ্যা সংবাদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ‘ডিপফেক’-এর প্রসার, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এসবের বিরুদ্ধে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে-যাতে এসব বিকৃত কর্মকাণ্ড মানুষের ওপর মানুষের আস্থাকে বিনষ্ট না করে কিংবা সামাজিক সম্প্রীতিকে দুর্বল না করে।’



