ডিএসসিসি প্রশাসক

ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ব্যবস্থা

‘বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে, আপনারা সিটি করপোরেশনে জানাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য রাখছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম
বক্তব্য রাখছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম |সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্ধারিত বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম।

লালবাগের শহীদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

সম্প্রতি মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির উদ্যোগে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২০০ জন কর্মী অংশ নেন। তারা খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলেন, ‘বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে, আপনারা সিটি করপোরেশনে জানাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসসিসির কবরস্থানে লাশ দাফন ও শ্মশানে লাশ দাহ্য বাবদ নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার ঘোষণাও দেন প্রশাসক।

তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এলে ঢাকা দেখেই দেশের অবস্থা বোঝা যায়। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির কথা বলেছেন।

পুরান ঢাকাকে ‘আদি ঢাকা’ উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে পুরান ঢাকাই সবচেয়ে উন্নত হোক। এখানে রাস্তার লাইট ঠিকমতো জ্বলবে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে- এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারো ব্যবসা নেই, কারো ঘরবাড়ি নেই, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের বিষয়েও দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ভাতা দেয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো: মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহানে ফেরদৌসসহ বিভাগীয় প্রধান এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস