শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্র

‘শিক্ষা হলো নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী বা লোক দেখানো না হয়, বরং তা হতে হবে বাস্তব ও কার্যকর।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার |সংগৃহীত

শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এগুলোকে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষায় কার্যকর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবরার বলেন, শিক্ষা হলো নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী বা লোক দেখানো না হয়, বরং তা হতে হবে বাস্তব ও কার্যকর।

তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট চাই। তাদের সক্রিয় মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বৈষম্য নিরসন সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।’

প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের মালিকানা নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এক সময় নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কা থাকলেও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। তাই শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় সকল কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স মোবিলাইজেশন এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ। বাসস