লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৬ হাজার টন ঈদ বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএসসিসি

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পাশাপাশি ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন ব্যবহার করা হয় বর্জ্য পরিবহনে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংবাদ সম্মেলন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংবাদ সম্মেলন |সংগৃহীত

ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (৩১ মে) নগর ভবন অডিটরিয়ামে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ঈদের দিন থেকে গত তিন দিনে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে অতিরিক্ত বর্জ্যও সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পাশাপাশি ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন ব্যবহার করা হয় বর্জ্য পরিবহনে।

তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে প্রথম দিনে ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকায় দৈনিক গড়ে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ঈদের সময় এই পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সীমিত লোকবল ও সম্পদ দিয়ে এত বিপুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, নগরবাসীর সহযোগিতায় অনেকেই নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলায় কাজ সহজ হয়েছে। তবে এখনো শতভাগ সচেতনতা নিশ্চিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএসসিসির আওতায় নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে কিছু হাটের ইজারাদার সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না করায় জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার দায়ে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রশাসক জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখলে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে জানালে এক ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সবার অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সূত্র : বাসস