সংসদে জামায়াত এমপি গোলাম রসুল

বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা দুর্নীতি ও দলীয়করণ

এ ছাড়া ঐতিহাসিক শের শাহ সড়ক দুই লেনে উন্নীতকরণ, বসুন্দিয়া, রোবের ডাঙ্গা, সেকের হাট ও চিত্রা নদীর ওপর বড় মিত্র সেতু নির্মাণসহ দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে জামায়াত এমপি গোলাম রসুল
সংসদে জামায়াত এমপি গোলাম রসুল |সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যশোর-৪ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রসুল। তিনি বলেছেন, বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৮১ শতাংশই ঋণনির্ভর। বর্তমানে দেশের প্রতিটি মানুষের কাঁধে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা চেপে আছে। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান দুটি বাধা হিসেবে ‘দুর্নীতি’ ও ‘দলীয়করণ’কে দায়ী করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বাজেটের সমালোচনা করে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, এটি একটি বিশাল ঘাটতি বাজেট। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে এতে। ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ৮১ শতাংশই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে দেশী-বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাংক থেকে, বিদেশ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। ফলে আজ দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকের মাথায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা বসে আছে।

বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দলীয়করণের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম-খুনের সমালোচনা আমরা করছি, কিন্তু সেই ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর এস আলম ব্যাংকগুলো ডাকাতি করে, ১ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি করে খালি করে দিয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদী দোসরদেরই আবার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, সংসদের ৩৫০ জন সদস্য যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সৎ না হন, তাহলে এই বাজেট বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন।

এ সময় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে চরম দলীয়করণেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম রসুল বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে বরাদ্দ বাড়লেও শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট বাজেট নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার যুগে বাজেট না থাকার কারণে আমাদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাবী তরুণরা বিদেশে হারিয়ে যাচ্ছে (ব্রেইন ড্রেইন)। আমি গবেষণার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বাজেট চাই। এ ছাড়া ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।

কৃষিখাতে বরাদ্দ কমার সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং জিডিপিতে কৃষির অবদান ১১.৩৮ শতাংশ। বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষিখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২.২৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের চেয়েও কম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে যাবতীয় দায়ভার আজ কৃষকের ওপর গিয়ে পড়েছে। সরকার ১৪৪০ টাকা ধানের মণ নির্ধারণ করলেও কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেননি। মধ্যস্বত্বভোগী, রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের যোগসাজশে কৃষকের প্রকৃত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সংসদে নিজ নির্বাচনী এলাকার (যশোর-৪) বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়ক ৪ বা ৬ লেনে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। নওয়াপাড়া থেকে যশোর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় ৭টি রেল ক্রসিংয়ে যানজট ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, সেখানে ওভারপাস নির্মাণ করতে হবে।

এ ছাড়া ঐতিহাসিক শের শাহ সড়ক দুই লেনে উন্নীতকরণ, বসুন্দিয়া, রোবের ডাঙ্গা, সেকের হাট ও চিত্রা নদীর ওপর বড় মিত্র সেতু নির্মাণসহ দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।