চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান-সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিক্যাল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এ আধুনিক মেডিক্যাল কলেজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP)-এর নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে পাঁচ বছর মেয়াদী চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিক্যাল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং একইসাথে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নেভি মেডিক্যাল কলেজটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সকল স্তরে সকল পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসা সেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এই কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ সময় নৌবাহিনী সদরদফতর ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অতিথি, চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



