নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তালিকা থেকে যাদের বাদ দেয়ার দাবি জানালো বিএনপি

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নির্বাচনী মুখপাত্র মাহদী আমিন এ দাবি জানান।

অনলাইন প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মাহদী আমিন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মাহদী আমিন |নয়া দিগন্ত

পর্যবেক্ষকদের সম্পূর্ণ তালিকা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে রাজনৈতিক ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নির্বাচনী মুখপাত্র মাহদী আমিন এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘যেসব সংস্থার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কম তাদের পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমিয়ে দিতে হবে। কোনো কেন্দ্রে একসাথে যাতে দুইজনের অধিক স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশ না করতে পারে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করা প্রয়োজন।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, গত এক সপ্তাহেই আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আমরা আরো দেখতে পাচ্ছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং একই ভাষা ও একই ধরনের স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি স্পষ্ট, বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেটদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্তে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কেননা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বিএনসিসি ক্যাডেটগণের অনেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সাথে সম্পৃক্ত। ফলে তাদেরকে নির্বাচনে সম্পৃক্ত করলে তা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছি। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে চিঠির মাধ্যমে বিএনসিসির ক্যাডেটদের মোতায়েন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, নির্বাচন কমিশন মোট ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষককে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিয়েছেন। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম, কেবল ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। আরো উদ্বেগের বিষয়, কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্ব পর্যায়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যরা রয়েছেন। নির্বাচনের দিন কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছে। ২০১৬ সালে বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করে ভিশন-২০৩০। ২০২২ সালে ঘোষণা করা হয় ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব, এবং ২০২৩ সালে আরো বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় ৩১ দফা। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব বিএনপিই সর্বপ্রথম জাতির সামনে তুলে ধরে, সেই ২০১৬ সালে। একইভাবে, একজন ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন ধরে একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই আগে উত্থাপন করেছে। ২০১৪ সালেই জনাব তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ৫% কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন।’

‘এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বারবার ঘোষণা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি যখন অবিরত সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে ও আন্দোলন করেছে, তখন যারা একটিবারের জন্যও সংস্কারের কথা মুখে আনেনি বা সংস্কার নিয়ে চিন্তা করেনি, আজকে তারা অনেকেই সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত এই নব্য সংস্কারবাদীরা বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন, যা বিস্ময়কর। বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণের ক্ষমতায়ন তথা ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’