দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫ এর ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর আড়াইটায় আগারগাওস্থ বিবিএস অডিটোরিয়ামে এই সার্ভে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মিজ আলেয়া আক্তার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ৬-২৩ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)’ পরিচালনা করে।
সার্ভে বলছে, ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের সময় ঘুষ দিয়েছেন। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে মতামত দিয়েছে বিআরটিএ ৬৩.২৯ শতাংশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৫৭.৯৬ শতাংশ, এবং পাসপোর্ট অফিস ৫৭.৪৫ শতাংশ।
এতে আরো বলা হচ্ছে, দেশের ৮৪.৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশের এলাকায় একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন। তাতে অনিরাপদ ১৫.১৯ শতাংশ মানুষ।
এছাড়া ঘুষ প্রদানের মধ্যে পুরুষদের দেয়ার হার ৩৮.৬২ শতাংশ, নারীদের ২২.৭১ শতাংশ। প্রায় ৯৮.৪৮ শতাংশ জনগণ ঘুষ হিসেবে ‘টাকা’ দেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্যবিষয়ক এসডিজি ১৬ এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে।
জরিপে দেখা যায় যে, দেশের ৮৪.৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশের এলাকায় একা চলাফেরা করতে নিরাপদবোধ করেন। এ নিরাপত্তাবোধ পুরুষদের (৮৯.৫ত শতাংশ) তুলনায় নারীদের (৮০.৬৭ শতাংশ) বেশ কম। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি (৯২.৫৪ শতাংশ)।
সুশাসনের বিষয়ে, মাত্র ২৭.২৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে তারা সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে এই হার আরো কমে ২১.৯৯ শতাংশে নেমে আসে। জাতীয়ভাবে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪.৬২ শতাংশ) জনগণ মনে করেন যে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়াপ্রবণ। এ বিষয়ে পল্লী (২৪.৪৭ শতাংশ) ও শহরের (২৪.৯১ শতাংশ) জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।
গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জাতীয়ভাবে ৪৭.১২ শতাংশ জনগণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ৪০.৯৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তাদের কমপক্ষে একটি সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে (প্রাথমিক/মাধ্যমিক) পড়াশোনা করেছে। তদুপরি, ৭৩.৭৭ শতাংশ জনগণ অন্যান্য সরকারি সেবা (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) গ্রহণের কমপক্ষে একবার চেষ্টা করেছেন। এ সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে পাঁচটি মাত্রার ভিত্তিতে দেখা যায় যে স্বাস্থ্যসেবায় সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ৭২.৬৯ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ৮১.৫৬ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ৭৮.১৮ শতাংশ এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) ৬৬.৯১ শতাংশ সন্তুষ্টি হার রিপোর্ট করা হয়েছে।
জাতীয়ভাবে প্রায় ১৬,১৬ শতাংশ জনগণ গত দুই বছরে কোনো বিবাদ বা বিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ (৮৩.৬০ শতাংশ) জনগণ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আনুষ্ঠানিক (যেমন: আদালত) অথবা অনানুষ্ঠানিক (যেমন: কমিউনিটি নেতা) কোনো না কোনো ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১.৩৪ শতাংশ আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং ৬৮.৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।
ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ১৯.৩১ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈষম্যের প্রধান ভিত্তি ছিল আর্থ-সামাজিক অবস্থা (৬.৮২ শতাংশ) এবং লিঙ্গ (৪.৪৭ শতাংশ)। বৈষম্যের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে নিজের পরিবারের মধ্যে (৪৯.৭২ শতাংশ), গণপরিবহন/উন্মুক্ত স্থানে (৩৪.৮২ শতাংশ) এবং কর্মস্থলে (২৪.৮৫ শতাংশ)। মাত্র ৫.৩৭ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছেন।



