৪৪তম বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২০ জনের স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগদান

চিকিৎসা পেশা কেবল একটি চাকরি নয়- এটি একটি মহান ব্রত। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের জীবন ও আস্থার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। পেশাগত ইথিকস ও নৈতিকতা যেন কখনোই আপসের বিষয় না হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্বাস্থ্য অধিদফতর
স্বাস্থ্য অধিদফতর |ইন্টারনেট

৪৪তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ৯৮ জন সহকারী সার্জন ও ২২ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগদান করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মকর্তাদের যোগদান অনুষ্ঠানে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: আবু জাফর বক্তব্য রাখেন।

মহাপরিচালক তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এ দিনটি আপনাদের পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। আজ ৯৮ জন সহকারী সার্জন ও ২২ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন আমাদের পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে এসেছেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আপনারা প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হচ্ছেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের বিষয়, একই সাথে এক বিশাল দায়িত্ব।

তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশা কেবল একটি চাকরি নয়- এটি একটি মহান ব্রত। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের জীবন ও আস্থার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। পেশাগত ইথিকস ও নৈতিকতা যেন কখনোই আপসের বিষয় না হয়। রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা, সকল রোগীর প্রতি সমান ও মানবিক আচরণ এবং বাণিজ্যিক চিন্তার উর্ধ্বে উঠে সেবা প্রদান- এই মূল্যবোধই একজন সরকারি চিকিৎসকের পরিচয় নির্ধারণ করে। আপনাদের সততা ও নৈতিকতাই জনগণের কাছে এই পেশার মর্যাদা আরো সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষের জন্য মানসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে আপনারাই হবেন সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান শক্তি। নিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা এবং সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা- এগুলো কোনো বিকল্প নয়, বরং বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

ডা: আবু জাফর বলেন, আপনাদের পেশাগত জীবনের ভিত্তি মজবুত করতে এবং চাকরিতে স্থায়ীকরণের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা ও বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে সময়মতো অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে- এগুলো কেবল দাফতরিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি কার্যক্রম এবং আইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের মাধ্যম। এরই সাথে, পেশাগত উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ও উচ্চতর পদের জন্য সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় সময়মতো উত্তীর্ণ হওয়া অপরিহার্য। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই একাডেমিক ও প্রশিক্ষণমূলক বিষয়গুলোতে সক্রিয় মনোযোগই আপনাদের পদোন্নতি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গঠনের ভিত্তি তৈরি করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নব নিয়োগকৃত চিকিৎসকবৃন্দ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

তিনি বলেন, আপনাদের মেধা, শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে। মনে রাখবেন, জনগণের করের টাকায় আপনাদের এই অবস্থান; অতএব জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টিই হোক আপনাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: খায়ের আহমেদ চৌধুরী ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: শেখ ছাইদুল হক। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সকল শাখার পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস