চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কয়েক হাজার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম ও পিপিএম (সেবা) এবং বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম ও বিপিএম (সেবা) দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনশতাধিক দেয়া হয়েছে জঙ্গিবাদ ইস্যুতে। বিশ্লেষক এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বজায় রাখতে ‘র’ এর প্রেসক্রিপশনে পশ্চিমা বিশ্বে জঙ্গির তকমা প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিতেই তথাকথিত জঙ্গি দমনের নামে সাজানো অপরেশনের বিপরীতে অনেককেই দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ চার পদক। অথচ পুলিশের আইনে এই পদক দেয়ার বিধান রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে বীরত্ব গাঁথা কর্মকান্ডের জন্য।
অন্তবর্তিকালীন সরকার ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১০৩ জন পুলিশ কর্মকর্তার অনুকূলে প্রদানকৃত এই চারটি পদক প্রত্যাহার করে নিলেও জঙ্গি ইস্যুতে দেয়া পদকগুলো প্রত্যাহার করার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ বর্তমান পুলিশ প্রধান নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি ইস্যু সাজানো নাটক। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুলিশের ঐতিহ্য ফেরাতে বিতর্কিত সব পদক বাতিল এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি।
নয়া দিগন্তের কাছে বেশ কিছু জঙ্গি ইস্যুতে এসব পদক দেয়ার তথ্য এসেছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্র এবং নয়া দিগন্তের হাতে আসে বিভিন্ন তথ্য-উপাথ্য ও নথি ঘেটে দেখা গেছে, গত ১৬ বছরে শুধু জঙ্গিবাদ দমন ইস্যুতেই তিন শতাধিক পুলিশ সদস্যকে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদক দেয়া হয়েছে। ওই পদক তালিকায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বর্তমান সরকারের বড় বড় পদে আছেন এখনও বহাল তবিয়তে। অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি। অনেকেই ওএসডি। কেউ কেউ অবসরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বে থেকে তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। বাগিয়ে নিয়েছেন স্পর্শকাতর ইস্যুতে পদক। কিন্তু পদক বাতিল করে তাদের ব্যাপারে বিভাগীয় কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। নয়া দিগন্তের হাতে থাকা এ ধরণের চারটি পদক পাওয়া কিছু পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও জঙ্গির কাজের ধরণ তুলে ধরা হলো পাঠকদের কাছে।
বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম পদক
খুলনা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামান পেয়েছেন বিপিএম পদক। পদক দেয়ার সুপারিশপত্রে অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে লেখা হয়েছে, ‘রাজশাহীতে ১৫-১০-২০১২ থেকে ২৮-০৮-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত চাকরিকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারুক হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১১০ জনের নামে তদন্ত কর্মকর্তাকে ডেকে প্রত্যক্ষভাবে নির্দেশনা দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। ০২-১০-২০১২ তারিখে শিবির কর্মী ও জঙ্গিরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে আতঙ্ক তৈরি করলে তার হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সাঈদীর ফাঁসির রায়কে ঘিরে রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের সহিংস ঘটনা মোকাবেলা করেন। এছাড়াও ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ছদ্মাবরণে রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১২ থেকে ১৫ হাজার জঙ্গীরা তাণ্ডবে মেতে উঠেন। তাদেরকে ৫ মিনিটের অপারেশনে ছত্রভঙ্গ করেন তিনি। লোকনাথ স্কুলে ৫ হাজার শিবির কর্মী বিএনপির ছদ্মবেশে অবস্থান নিলে তাদেরও প্রতিহত করেন। জুনের শেষের দিকে র্যাব-৫ এর অফিসে হামলার জন্য শিবিরের ৪ থেকে ৫ হাজার সন্ত্রাসী মিলিত হলে সেখানেও তাদের প্রতিহত করেন।’
২০২২ সালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে (বিপি৭৭০৫১০৭০০৭)। তাকেও দেয়া হয় বিপিএম পদক। কারণ হিসেবে সুপারিশপত্রে অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে বলা হয়, ‘২৮-১০-২৩ তারিখে ঢাকার নয়াপল্টনের বিএনপি মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। ওই সমাবেশকে ঘিরে আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে লাঠিচার্জ শর্টগান, সাউে গ্রেনেড, স্মোক গ্রেনেড ও কাঁদুুনে গ্যাস প্রয়োগ করে ধ্বংসলীলায়মত্ত উচ্ছৃংখল জনতাকে নিবৃত করে এলাকা ক্লিয়ার করার কারনে তাকে ওই পদক দেয়া হয়।’
বিপিএম পদক দেয়া হয় লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এমএ ইউসুফকে (বিএ-৬৪০০)। ২০২২ সালে তিনি র্যাব-৭ এর অধিনাযক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে বিপিএম পদকের সুপারিশপত্রে ৬টি কার্যক্রমের মধ্যে প্রথমে লেখা হয়,‘২০০২ সালের ৩ অক্টোবর থেকে ১ মাস সময়ে ধরে বান্দরবনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বড় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অভিযানে কয়েকজন সুরা সদস্রসহ ১৫ জন জঙ্গি গ্রেফতার হয়।’
২০২২ সালে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছিলেন শেখ ইমরান হোসেন (বিপি-৮৯১৪১৬৬৩০৩) তিনি পিপিএম ও বিপিএম পদক পেয়েছেন। বিপিএম পদক পাওয়ার সুপারিশপত্রের তিনটিতেই লেখা হয় জঙ্গি দমন। একটিতে লেখা হয়, ‘তার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠির গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারকে দুর্গম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬/১২/২০২১ তারিখে হবিগঞ্জের দুর্গম জঙ্গলে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং সোয়াটের ১০০ সদস্যের টিম নিয়ে ২৪ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে দুর্গম পাহাড়ের চুড়ার মাটির নিচে পূঁতে রাখা ১৫ টি রকেট লান্সার, ২৫টি সেল বুস্টার, ৫১০টি রাউন্ড হেভি মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করেন।’
সুপারিশপত্রের অপরটিতে লেখা হয়, ‘শেখ ইমরান নতুন সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার ফির হিন্দাল শারকীয়া সনাক্তকরণ ও তাদের সদস্যের গ্রেফতার করেন। আরো বলা হয়, এই সংগঠনটি চিন-কুকী সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় ট্রেনিং এবং সদস্য সংগ্রহ করে। শেখ ইমরান তাদের মাস্টারমাইন্ডেড শামীন মাহফুজকে প্রথম সনাক্ত করে দেশবাসির গোচরে আনেন।’
অপরটিতে লেখা হয়, ‘এই সংগঠনের দাওয়া বিভাগের প্রধান ডা. শাতীর বিন ওয়ালী ও সুরা সদস্য অর্থদাতা মহসীন ইমামকে গ্রেফতার করেন। এছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের শীর্ষস্থানীয় সদস্য বিএম মুজিবুর রহমানসহ অনেক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করেন।’
বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সেবা পদক
২০২২ সালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন মিয়া মাসুদ করিম (বিপি-৭২০১০৮৯৩৭৪)। তাকে দেয়া হয়েছে বিপিএম-সেবা পদক। সুপারিশে অন্যান্য কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, ‘জঙ্গিবাদ দমন ও পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষে এপিবিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাড়গড়াছড়িতে এএসপি থেকে কনেস্টবল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের ৮ সপ্তাহ মেয়াদী পুলিশ কমান্ডো কোর্স এন্ড এনটিটেরিরিজম কোর্স চালু করার ব্যবস্থা করেন।’
২০২২ সালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (ক্রাইম এনালাইসিস) পদে কর্মরত সুনন্দা রায়ও (বিপি-৭৮০৫১০৩৮২০) পেয়েছেন বিপিএম-সেবা পদক।
সুপারিশে লেখা হয়েছে, ‘সিটিসিতে জঙ্গিদের প্রোফাইল তৈরি, শতাধিক জঙ্গির ছবি সংগ্রহ, জঙ্গি মামলার লিংক চার্ট তৈরি, নারী জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন। ’
বিপিএম-সেবা পদক পেয়েছেন মেজর মির্জা আহমদ সাইফুর রহমান (বিএ-৫৬৪৪)। ২০২২ সালে তিনি র্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সুপারিশপত্রের শুরুতেই লেখা হয়েছে, ‘রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবির মুল সংগঠন জামাতুল মসুলিমীন ও হিজবুত তাহরীরসহ ৮ জন সক্রিয় জঙ্গি সদস্য গ্রেফতারসহ উগ্রাবদি ১১০ টি পুস্তিকা, ৩৯৪ টি লিফলেট, ১০৩ টি পোস্টারসহ অন্যান্য উপকরণ উদ্ধার করেন।’
স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহুল পাটওযারী (বিপি-৮৬১৩১৫৯৪৬৫) পিপিএম পদকের পাশাপাশি বিপিএম-সেবা পদক পান। ২০২২ সালে তিনি ঢাকায় এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে বিপিএম সেবা পদক দেয়ার সময় সুপারিশপত্রের ৩নং ক্রমিকে লেখা হয়, ‘সরকারকে বিব্রবতকর অবস্থায় ফেলতে ধর্মকে পূঁজি করে গড়ে উঠা বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষদের উস্কে দিতো। পাশাপাশি সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চক্রান্তকারীদের সাথে মিলে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করতো।
মূলত: বিভিন্ন বড় বড় কওমি মাদরাসার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক এসব রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রিত হতো। তারা নিজ নিজ মাদরাসা ছাত্রদের সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ব্যবহার করতো। এর পাশাপাশি তারা জোটবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এবং সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতো। এসব বিসয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকার ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের দিতেন তিনি। ’
রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম পদক
নয়া দিগন্তের কাছে থাকা তথ্যে দেখা গেছে, লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদকে (বিএ-৬১৩৯) দেয়া হয়েছে পিপিএম পদক। ২০২২ সালে তিনি ছিলেন র্যাব-৬ এর অধিনায়ক। তার সুপারিশপত্রের ১ নং ক্রমিকে বলা হয়েছে, ‘১৯ মার্চ ২০২২ জঙ্গি বিরোধী অভিযান পারিচালনা াকরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেন। এছাড়াও পৃথক পৃথক অভিযানে আনসার আল ইসলাম,হিজবুত তাহরীরের সুরা সদস্যসহ ৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার এবং উগ্রাবাদি লিফলেট, বই ও নথিপত্র উদ্ধার করেন।’
২০২২ সালে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল তানভির মাহমুদ পাশা (বিএ-৬৮৬৮)। তাকেও দেয়া হয়েছে পিপিএম পদক। সুপারিশপত্রের ৩ নং ক্রমিকে বলা হয়, ‘৫ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও ময়মনসিংহে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ জন জঙ্গি গ্রেফতার করেন। এছাড়াও ১ ডিসেম্বর ২০২১ সাল থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পর্যন্ত ১৭টি জঙ্গি বিরোধী অভিযান পারিচলান করে ২৬ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইসতিয়াক-উর-রশিদও (বিপি-৮১১০১২৬৯০১) পেয়েছেন পিপিএম ও বিপিএম সেবা পদক। ২০২২ সালে ওই পদে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত ছিলেন। পিপিএম পদক পাওয়ার সুপারিশের ১ নং ক্রমিকে বলা হয়, ‘২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে বই মেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলামের হামলার পরিকল্পনা প্রতিরোধে এবং সদস্য রুমেল ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার করেন। তার মাধ্যমে নাশকতা প্রতিরোধ ও জঙ্গি সংগঠনের বর্তমান ও ভবিষৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপুর্ণ তথ্য উদঘটিত হয়।’
২০২২ সালে এন্টিটেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন তাসনিম আখতার (বিপি-৮৪১২১৪৭৭৭১)। তিনিও পেয়েছেন পিপিএম পদক। তাকে এই পদক দেয়ার সুপারিশ পত্রের ১.২,৩ ও ৫ নং ক্রমিকে জঙ্গি দমনের বিষয়ে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘১১/৩/২২ তারিখে জঙ্গি সংগঠন হুজিবির কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফারের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র, গুলি, ১৫০০ গ্রামের ওজনের ২টি উচ্চ বিষ্ফোরক, ফিট কর্ডেক্স, ৫ টি ডিটোনেটর, ১১৩৫ টি এসএমজির গুলি ও মেশিন ও ৮টি ককটেল উদ্ধার করেন। এছাড়াও ২০/১০/২২ তারিখে বাড্ডার সেকেন্দারবাগ এলাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার কবরেন। ২৬/৯/২২ তারিখে সাভার থেকে হিজবুত তাহরীরের সদস্য রবিউল ইসলাম এবং একই তারিখে হিজবুত তারীরের সদস্য মাহফুজ রানাকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে গ্রেফতার করেন।’
২০২২ সালে ডিএমপির লজিক্টিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকা মির্জা সালাহউদ্দিনকে (বিপি-৮২১২১৪৭৭২৭) দেয়া হয় পিপিএম পদক। সুপারিশপত্রের ১ নং ক্রমিকে বলা হয়, ‘তার নেতৃত্বে আনসার আল ইসলাম ও জেএমবির ১৭ জন জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছেন নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও থেকে।’
সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রায়হান উদ্দিন মোরাদ (বিপি-৯২১৮২২০৫৫৮)। তিনিও পেয়েছেন পিপিএিম পদক। ২০২২ সালে র্যাব-৭ এ ওই পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সুপারিশপত্রের ১ নং ক্রমিকে বলা হয়েছে, ‘তিনি চট্রগামের হাটহাজারি এবং রাঙ্গামাটি ও বান্দরবন জেলায় ৩ টি অভিযান চালিয়ে ৯জন শীর্ষ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন।’
২০২২ সালে ডিএমপির সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল টিমে কর্মরত ছিলেন কনেস্টবল/৩১২৩০ জয়নন্দ বড়ুয়া (বিপি-৯২১৫১৭৬৫৮৪)। তাকেও দেয়া হয়েছে পিপিএম পদক। সুপারিশ পত্রের ১, ২, ৩ এ জঙ্গি গ্রেফতার ও উদ্ধারের কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, ‘১/১১/২২ তারিখে ঢাকায়র সায়াদাবাদ হুজুরবাড়ী এলাকা থেকে আনসার আল ইসলামের ৩ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছন। ২১/৩/২২ তারিখে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নব্য জেএমবির আমীর মাসুদ উল কবীরকে গ্রেফতার করেন। এছাড়াও রকেট লাঞ্চার, কুস্টার, হেভি মেশিনগানের গুলি, আইইডি তৈরির সরঞ্জামাদি, বিষ্ফোরেক পদার্থ রিমোর্ট কন্ট্রোল ডিভাইস উদ্ধার করেন।’
রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা পদক
২০২২ সালে বগুড়ার পুলিশ সুপার ছিলেন সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী (বিপি-৭৫০৫১০৫১১১)। তিনি বিপিএম এর পাশাপাশি পিপিএম-সেবা পুরস্কার পেয়েছেন। সুপারিশ পত্রের ১ নং ক্রমিকে বলা হয়, ‘জেএমবি নেতা ফাইজুল্লাহ ওরফে ফাইজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছেন। ফাইজুল্লাহ গ্রিণ বার্ড আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কন্টেন্ট বাংলায় অনুবাদসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ও টেলিচ্যানেলে শেয়ার করতেন।’
২০২২ সালে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কনফিডেন্সিয়াল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন আ.ত.ম. আব্দুল্লাহেল হাদী (বিপি-৮১১১১৪২৫২৪)। তাকেও দেয়া হয় পিপিএম-সেবা পদক। সুপারিশপত্রের ৪ নং ক্রমিকে বলা হয়, ‘ জঙ্গিবাবাদ ও উগ্রবাদ, রাজনৈতিক, প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ও গুরুত্বপর্ন অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত গোয়োন্দা রিপোর্টের তথ্য সংকলন, যাচাই-বাছাই ও সুক্ষভাবে বিশ্লেষন পূর্বক কর্মককতাদের অবহিতকরণ ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ ইউনিটে প্রেরণ, স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। ’
জঙ্গি নাটক ইস্যুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বলেছিলেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হককে
জঙ্গি নাটক অপারেশন ইস্যুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। যা পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক তার নিজের লেখা ‘পুলিশ জীবনের স্মৃতি স্বেরাচার পতন থেকে জঙ্গি দমন’ বইয়ে স্পস্টভাবে উল্লেখ করেছেন। বইটির ৩০৩ পৃষ্ঠায় শহীদুল হক উল্লেখ করেন, ১৫ আগস্ট ২০১৭ তারিখের অভিযানের পরদিন গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করি। আমাকে দেখে তিনি বলেন, ‘এত কাছাকাছি জঙ্গি এনে অপারেশন নাটক না করলেই পারতে।’
বইটির ৩০২ পৃষ্ঠায় ১৫ আগস্ট ২০১৭ তারিখের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে সাবেক পুলিশ প্রধান শহীদুল হক লেখেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল। জঙ্গিরা সিসিটিসির ট্রাকিংয়ের মধ্যেই ছিল। ভোররাতে একজন জঙ্গি পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতে ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি নিম্নমানের হোটেলে ওঠে। সকালে সাদা পোশাকে গিয়ে পুলিশ হোটেলের রেজিষ্ট্রেশন বুক চেক করে জঙ্গির রুম নিশ্চিত করে। সোয়াত টিম রুম ঘেরাও করলে জঙ্গি দরজা না খুলে ভেতরে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ দরজা ভাঙতে শুরু করলে সে ভিতরে আরও বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মাহুতি দেয়। বিষ্ফোরণে কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বোঝা যায়, শক্তিশালী বোমা বা আইইডি ছিল।’
যা বললেন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সাবেক কমান্ডেন্ট) এম মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান, ‘বিগত ষোল বছর দেশটাকে আরটিফিশিয়াল জঙ্গি এবং জঙ্গি অভিযান দিয়ে রেখেছিল হাসিনা সরকার। উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা টিকেয়ে রাখা। সেকারণে যখন যাকে প্রয়োজন যেভাবে প্রয়োজন তাকে জঙ্গি বানানো হয়েছিল। রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এই জঙ্গিনামাকে। জেলখানাসহ সারাদেশের বিভিন্ন সংস্থার আয়নাঘরগুলোতে সাজানো জঙ্গি রাখা ছিল। যখনই রাজনৈতিক সংকট এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ভয়েস রেস করেছে তখনই জেলখানা ও আয়নাঘরগুলোথেকে সাজানো জঙ্গি এনে অপারেশন ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। জঙ্গি ইস্যু দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বেও সহানুভূতি নেয়া হয়েছে। টুলস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পুলিশ এবং র্যাব। আর পেছন থেকে পরিকল্পনা ও ছক কসে তা বাস্তবায়ন করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ডিজিএফআই। এর মূল লক্ষ ছিল বাংলাদেশকে সব সময় ভারতের অধিনস্ত রাখা। শুধু তাই নয়, জঙ্গি ইস্যুতে হাসিনা তার আর্টিফিশিয়াল গেম পশ্চিমা বিশ্বে ইসটাবলিস্ট করতেই পুলিশের গুরুত্বপূর্ন চারটি পদক তার পদলেহনকৃত অফিসারদের দিয়েছেন।’
পুলিশের এই সাবেক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যেহেতু একটি মডারেট মুসলিম কান্ট্রি। মানুষ ইসলামিক এবং বাংগালি কালচার চর্চা করেন। জঙ্গি ইস্যুর আরো একটি টার্গেট ছিল মুসলিম কালচারকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জঙ্গি তকমা দিয়ে মুসলিম কালচার নস্ট করে দেয়া। এজন্য ভিশন ৪১৪১ বাস্তবায়নের টার্গেটে ৩১ এর মধ্যেই বাংলাদেশের দুটি প্রজন্মের কাছে প্রতিষ্ঠিত করা হতো মুসলিম কালচার, জঙ্গি কালচার। অন্তত দুটি প্রজম্ম ভুলে যেতো ইসলামিক কালচার।’
পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরো জানান, ‘যেহেতু বাংলাদেশে কোন জঙ্গি ইস্যু নেই, তৎপরতা নেই। যেহেতু এটা বাংলাদেশকে ভারতের অধিনস্ত রাখতে র এর প্রেসক্রাইবে হাসিনার আর্টিফিশিয়াল প্রজেক্ট। সেকারণে জঙ্গি ইস্যুতে দেয়া পদক গুলো বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় ভবিষ্যতেও যেন কোন সরকার এ ধরণের পদক্ষেপ নিতে না পারে সে বন্দোবস্তও করা দরকার। আমরা এ বিষয়ে ভয়েস রেস করছি। গণমাধ্যমই বিষয়টি নিয়ে কাজ করুক। কারণ একটি মিধ্যার ওপরে কখনই কোন দেশ ভর করতে পারে না। ’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতি-সমাজ বিশ্লেষক এবং চিন্তক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভারতকে খুশি করতে ‘র’-এর প্রেসক্রিপশনে বিগত ১৬ বছর ধরে জঙ্গি নাটক তৈরি করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পশ্চিমা বিশ্বে উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাতে আরও দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল। এটা আমরা শুরু থেকে বলে আসছিলাম। তারা নিরপরাধ কিছু তরুণকে ধরে নিয়ে গিয়ে ডিজিএফআই, র্যাবের পুলিশের আয়নাঘরগুলোতে রেখে তাদের দাড়িচুল বড় করাতো। যখনই ‘র’ প্রেসক্রাইব করতো। তখনই তারা সাজানো জঙ্গির আস্তানা আবিস্কার, জঙ্গি গ্রেফতার এবং এক্সক্লুসিভ উদ্ধারের নাটক সাজাতো। দেশের বড় বড় ইস্যুগুলোকে জঙ্গি ইস্যু দিয়ে ঢেকে ফেলা হতো। সেই সময় চাটুকার কর্মকর্তারা বিপিএম পিপিএম পদক বাড়িয়ে নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছেন। এসব পদক বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। যদি সেটা করা না হয়, তাহলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ নিয়ে জঙ্গিও তকমা বহাল থাকবে। যা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মানের কার্যক্রমকে ব্যহত করবে। ’
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের দুইজন সাবেক পুলিশ মহা পরিদর্শকের সাথে সাথে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের।
তাদের একজন আওয়ামী লীগ সরকার এবং অপরজন বিএনপি সরকারের সময়কার। তারা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই চারটি পদক অপব্যাবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘বিগত ১৬ বছর যেভাবে জঙ্গি ইস্যুতে পুলিশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক দেয়া হয়েছে। তাতে পুরো পুলিশ বিভাগ উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, শুধু ঢাকায় নয় বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলার পুলিশ, র্যাব, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন আয়নাঘর আছে। ১৬ বছরে যেখানে হাসিনার সাজানো জঙ্গিবাদ ও বিরোধী রাজনৈতিক দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখান থেকে গুম খুন এবং অভিযানের নাটক করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ইস্যুতে পদক দেয়ার মধ্যমে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে বিশ্বে। এসব পদক বাতিল করতে হবে। নির্বাচন ইস্যুতে বাতিল করা হলেও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন সাজানো ইস্যুতে দেয়া পদক বাতিল না হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। ইন্টিরিম সরকারকে পুলিশ সংস্কারের যাওয়ার আগেই এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, ‘বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গি হতে পারে না। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। আছে কিছু চোর-ছিনতাইকারী। আগে জঙ্গিবাদের প্রলেপ দিয়ে নাটক সাজানো হতো। ইতিমধ্যে জাহাজবাড়িসহ কয়েকটি ঘটনার আসল সত্য প্রকাশ পেয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোরও আসল সত্য সামনে আসবে বলে বিশ্বাস করি। সুতরাং বর্তমানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দেশে কোনো ঝুঁকি নেই। বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ। এটি সবসময় বজায় থাকবে বলে মনে করি’।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১০৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রত্যাহার করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১০৩ জন কর্মকর্তার অনুকূলে প্রদানকৃত বাংলাদেশ পুলিশ পদক-২০১৮-এর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)/বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা)/রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)/রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) নির্দেশক্রমে প্রত্যাহার করা হলো। পদক বাতিলের তালিকায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বেনজীর আহমেদ, ডিবির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ১০৩ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে র্যাবে প্রেষণে কাজ করা অনেক সেনা কর্মকর্তাও আছেন।
তবে তাদের পদক বাতিল করা হলেও বিভাগীয় বা আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সরকার।



