আগস্টে জনপ্রশাসন থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া জিয়াউলকে সচিব পদে পদোন্নতি!

আগস্টে বিক্ষুদ্ধ কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার পর এই কর্মকর্তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বদলি করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক
ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক |সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানাকে তাড়িয়ে দেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এরপর একই মন্ত্রণালয়ের শায়লার ঘনিষ্ঠ ও আওয়ামী সুবিধাভোগী অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হককে ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন তারা। এ সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিতে চাইলে সেটিও নিতে দেননি। পরে তার কর্মচারীরা তাকে ল্যাপটপটি পৌঁছে দেন। এই কর্মকর্তাকে সচিব পদোন্নতি দিয়েছে অর্ন্তবর্তী সরকার।

সোমবার (২২ ডিমেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়।

জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, আগস্টে বিক্ষুদ্ধ কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার পর এই কর্মকর্তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের পর মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব মো: এহছানুল হকের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এই কর্মকর্তা। এরপর মো: এহছানুল হক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি হলে জিয়াউল হককে এপিডি উইংয়ে পদায়নের আগ্রহ দেখান। এটি হলে জনপ্রশাসন সচিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে তা ভেবে তাকে এপিডিতে পদায়ন করা হয়নি।

এরপর এই কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে দৈনিক নয়া দিগন্তে এসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে পদোন্নতি আটকে যায়। সংবাদ প্রকাশের ৪২ দিনের মাথায় তাকে পদোন্নতি দিলো অর্ন্তবর্তী সরকার।

জিয়াউল হকের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই কর্মকর্তা শায়লা ফারজানার ঘনিষ্ঠ আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা হওয়ায় ২০১৫ থেকে শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। এর আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, ১/১১ সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কাজ করেছেন।