ফ্যামিলি কার্ড নারীদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম : মির্জা ফখরুল

‘ফ্যামিলি কার্ড এমন একটি পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়াতে পারবেন। এ কার্ডের মাধ্যমে আপনাদের একটি শক্তি তৈরি হবে এবং পুরুষরাও আপনাদের গুরুত্ব দিতে শুরু করবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |সংগৃহীত

এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড এদেশে নারীদের জন্য একটি শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এ কার্ড নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড এমন একটি পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়াতে পারবেন। এ কার্ডের মাধ্যমে আপনাদের একটি শক্তি তৈরি হবে এবং পুরুষরাও আপনাদের গুরুত্ব দিতে শুরু করবে।’

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার ক্ষমতায় এসেই ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারে আসার মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেকটি পরিবার এ কার্ড পাবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। আগামী ১৬ তারিখ থেকে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে, যাতে বর্ষাকালে জমে থাকা পানি সংরক্ষণ করে, খরার সময় কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

মির্জা ফখরুল জানান, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, সেচ ও বীজ কিনতে পারবেন।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর দেশে সঠিকভাবে আইনকানুন কার্যকর ছিল না। নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অনেক সময় টাকা ছাড়া বিভিন্ন সুবিধার কার্ড পাওয়া যেত না। কিন্তু এবার ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো টাকা লাগেনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই-পর্যায়ক্রমে সবাই এ কার্ড পাবেন।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, জনগণের শক্তির কাছে কোনো শক্তিই বড় নয়। তাই জনগণের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, এটি আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আপনাদের এ ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না। তবে এলাকার উন্নয়নে কিছু কাজ করে যেতে চাই।’

এলজিআরডি মন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৭ সাল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর নির্মাণ কাজও শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে এবং মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলাম, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতা ও উপকারভোগীরা। বাসস