রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট Personnel Authorization হস্তান্তর করেন।
লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য, এর আগে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং একইসাথে জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে বিভিন্ন ধাপের পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এসব কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যার মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে।



