খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ভেজাল খাদ্য বিক্রি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিধিবদ্ধ সংস্থা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ এবং সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য, যেমন- আম, শুঁটকি, খেজুরের গুড়সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট তিন হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ১৫টি সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে নয় হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়, জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা ভেজাল প্রতিরোধে ছয় হাজার ৪৪৪টি খাদ্য স্থাপনা ও বাজার তদারকি করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে তিন হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবের মাধ্যমে চার হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
মো: আব্দুল বারী আরো জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও ভেজাল প্রতিরোধে ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে দুই হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্মিত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক চারটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে মোট ২২৪ মিনিট প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়া জনগণ ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মসুর ডাল, খাদ্যে ক্ষতিকর হাইড্রোজ, গুড়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার পরিহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২২টি গণবিজ্ঞপ্তি ৬৯টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছে। বাসস



