ইসি সচিব

ব্যালট দু’টি হওয়ায় ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে

আদালতের কারণে প্রার্থী বেড়ে ১ হাজার ৯৮১

‘এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক মিলে পাঁচ শ’ আসবে। আর আজ রাত পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৮১ জনে উন্নীত হয়েছে। আদালতের আদেশ হলে আরো বাড়তে পারে।’

বিশেষ সংবাদদাতা
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ |ফাইল ছবি

এবার ভোটাররা দু’টি ব্যালটে ভোট দেবেন। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের থেকে একটু বেশি সময় লাগার কথা। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আপনার প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। তাই ভোটারের দিতে এবং ভোট গণনা করতে বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং কমপ্লিট শাটডাউন বা বন্ধ করার ব্যবস্থাটা বোধহয় হবে না। তবে আমরা হয়তো লেনদেনের লিমিটটা সীমিত করে দিতে পারি।’

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক এবং বিএনসিসি’র সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক মিলে পাঁচ শ’ আসবে। আর আজ রাত পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৮১ জনে উন্নীত হয়েছে। আদালতের আদেশ হলে আরো বাড়তে পারে।’

পাঁচ শ’ বিদেশী পর্যবেক্ষক

ইসি সচিব বলেন, আমরা ফরেন অবজার্ভারদের থেকে ইনভাইট করেছি। ৮৩টা বিভিন্ন অর্গানাইজেশন। তাদের ভেতরে ৩৬ জন আমাদেরকে কনফার্ম করেছেন। আর পাঁচটা সংস্থা থেকে রিগ্রেট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দু’টি পদ্ধতি ছিল। একটা আমরাসহ উদ্যোগে ইনভাইটেশন করেছি, আরেকটা হচ্ছে যে ওপেন ইনভিটেশন ছিল। জার্নালিস্ট অ্যান্ড অবজারভারসদের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ৫০ জন জার্নালিস্ট আমাদেরকে তাদের ইন্টারেস্ট শো করেছেন। তারা আসতে চান আমাদের এখানে নির্বাচন দেখার জন্য। আর ৭৮ অবজারভারস ওয়ার্ল্ড ওরা আসতে চান। এটা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হয়তো দেখা যাবে যে আরো আধা ঘণ্টা পরে বা এক ঘণ্টা পরে এটার সংখ্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এনাদের ভিসা প্রাপ্তির বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। অন এরাইভাল ভিসা। তবে ভিসা নিয়ে আসতে বলেছি। পয়েন্ট অব ডিপার্চার থেকে নিয়ে আসতে বলেছি। আর যদি না পারেন কেউ তাহলে সেক্ষেত্রে অনএরাইভাল এখানে ব্যবস্থা আছে এয়ারপোর্টে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ইনাদের জন্য একটা হেল্প থাকবে, সে পাশাপাশি ইনাদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমাদের যে অভ্যাগতরা আছেন যাদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি তারা মূলত ওখানেই থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ সংখ্যাটা ২৭৫ অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। প্রকারান্তরে তিন শ’ এর কাছাকাছি যাবে বলে আমাদেরকে একটা ধারণা দেয়া হয়েছে। আর কমনওয়েলথস সেক্রেটারিট থেকে আমরা ইনভাইট করেছিলাম দু’জনকে। বাট তারা ১০ জন আসবেন। তার্কিস থেকেও আমরা দু’জনকে ইনভাইট করেছিলাম। কিন্তু ওরা সম্ভবত নয়জন আসবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং

আর্থিক লেনদেনের কারণে সচিব বলেন, মোবাইল ফাইনান্সিং সিস্টেমের ওপরে আজকে আমরা কথা বলেছি কিছু রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের সাথে। তবে কমপ্লিট শাটডাউন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দু’ দিন বা এক দিনের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থাটা বোধহয় হবে না, থাকবে না। অতীতে বোধ হয় এরকম ছিল। কিন্তু সেটা আমরা করব না।

তিনি বলেন, মোবাইল ফাইনান্সিংয়ে এবং এর সাথে সাথে আই-ব্যাংকিং এর বিষয়টাও আলোচনা করা হয়েছে। এটা কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাঠামোটা ঠিক করা হয়নি। তবে নীতিগতভাবে সবাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে হয়তো লিমিট করা হবে, গ্যাপ করা হবে।

তিন হাজার ভোটারের জন্য এক কেন্দ্র

ইসি সচিব বলেন, এবার ভোট গণনার ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগবে। কেন্দ্রভিত্তিক কেন্দ্রে এবং আর রিটার্নিং অফিসারের ওখানে পোস্টাল ব্যালটের কারণে। যেমন, প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটা ভোট কেন্দ্র এখানে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসার এর কাছে যেখানে পোস্টাল ব্যালট আসবে। সেখানে আরো বেশি সময় লাগবে। আই রিপিট সেখানে আরো বেশি সময় লাগবে।

উদাহরণ টেনে তিনি আরো বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজার ৩৮ জন নিবন্ধন করেছে। তাহলে এখন বুঝেন ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ গুণেরও বেশি। চিটাগং-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ নিবন্ধিত। কুমিল্লাতে ১৩ হাজার ৯৩৯ পোস্টাল ভোটার। তার মানে পাঁচটা বা ছয়টা আসনের ভোটার একটা জায়গায়। একটা কেন্দ্রে।

তিনি বলেন, আমরা এবার দু’টি ব্যালট, দু’ সাইড দুই রকমের ব্যালট ব্যবহার করছি। প্রবাসীদের জন্য এক ধরনের ব্যালট আর দেশের অভ্যন্তরে যারা আছেন তাদের জন্য আরেক ধরনের ব্যালট। গণভোট সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগবে।

তিনি আরো বলেন, একসাথে গুনবেন এবং একইসাথে রেজাল্টটা দিবেন। কাজেই সেই কারণেই সময়টা একটু বেশি লাগবে।

থাকছে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্য

সচিব জানান, বিএনসিসি’র প্রায় ১৬ হাজারে অধিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করবেন। তবে উনাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান কে কোথায় কিভাবে এটা থাকবেন করবেন এবং তাদের কমান্ড স্ট্রাকচারটা কার অধীনে কিভাবে কাজ করবেন, এই জিনিসটা আমরা আগামী রোববারে আলোচনা করব। তবে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিএনসিসি আমাদেরকে সহায়তা দিবেন এবার।

সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ঢাকা-১২ আসনে

সচিব জানান, সংসদীয় আসন ঢাকা-১২ আসনে সবচাইতে বেশি প্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ১৫ জন ঢাকা-১২ আসনে। আর সবচাইতে কম প্রার্থী হচ্ছে পিরোজপুর-১ আসনে, দু’জন মাত্র।

তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী হচ্ছেন সব মিলিয়ে এক হাজার ৯৮১ জন। এর ভেতরে স্বতন্ত্র হচ্ছেন ২৪৯ জন। আর নারী অথবা নারী প্রার্থী হচ্ছেন ৭৬ জন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে সবচাইতে বেশি প্রার্থী দিয়েছেন বিএনপি ২৮৮ জন। নিবন্ধিত দল প্রার্থী দেয়নি এমন হচ্ছে সংখ্যা নয়টি।

এনআইডি কার্ড হস্তান্তর নিষিদ্ধ

সচিব বলেন, মূলত এইটা এই অভিযোগটা করার কথা আপনার ইলেক্টরাল ইনকয়ারি কমিটির কাছে। যেহেতু এনআইডি’র বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এটা আচরণবিধি ভঙ্গ সেজন্য আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য করছি। আপনি দেবেন না এবং আপনি চাইবেন না। তবে এটা অনাকাঙ্ক্ষিত যেন না হয় সেজন্যই এই সেন্সিটাইজেশনটার খুব জরুরি দরকার ছিল।

তিনি বলেন, আর আমরা দেখেই মিডিয়াতে তো এসেছে। এনআইডি কার্ড নিতে যান মিরপুরের একটা ঘটনা আসছে।

দ্বৈত নাগরিত্ব নিয়ে টিআইবি

আখতার আহমেদ বলেন, কমিশনের অবস্থানটা হচ্ছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব যারা ত্যাগ করেছেন সে সম্পর্কে মোটামুটিভাবে নিশ্চিত না হয়ে দেন। আমি যতটা জানি এমন। কারণ আমিও ছিলাম আলোচনাগুলো। এখন দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টা যারা পরিত্যাগ করেছে, দেশভেদে এটা সময়ের একটা ব্যাপার আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো তাৎক্ষণিক হতে পারে, কোনো কোনো সময় দীর্ঘ হতে পারে। এখন দীর্ঘসূত্রিতা যদি হয় তাহলে ততদিন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায়, তাহলে কি তিনি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? এই জিনিসটা দিস ইজ এ ম্যাটার অফ ইন্টারপ্রেটেশন। তো কমিশন মনে করেছেন যে এরকম ক্ষেত্রে যদি সন্তুষ্ট হতে পারে যে হ্যাঁ উনি ওনার দিক থেকে যেটুকু করা সম্ভব সেটুকু করেছেন। বাকিটুকু সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, এখন যদি এর বাইরেও কেউ কন্সিল করে থেকে থাকেন। আছে কিন্তু বলেননি। সে জিনিসটা কমিশনের নজরে এলে অবশ্যই দেখবেন এবং এবার আরপিও তে একটা নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। কমিশন যেকোনো সময় যেকোনো কারো কোনো মাধ্যমে এ ধরনের কোন তথ্য পেলে শুধু দ্বৈত নাগরিকত্ব না অন্য কোন তথ্য পেলে অযোগ্যতার তথ্য পেলে সেটা যদি জানায় কমিশন সেটা পরীক্ষা করে দেখবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।