নয়া দিগন্তের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ : প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জানার নতুন বিশ্বকোষ

নয়া দিগন্তের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিনটি পড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কালজয়ী নেতা হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া জিয়ার জীবন ও কর্ম থেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অনুপ্রেরণা জোগাবে এ ম্যাগাজিন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখা ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিন
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখা ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিন |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইন

জিয়াউর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি অসাধারণ অধ্যায়, একটি আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, তিনি রাষ্ট্রনায়ক। দৈনিক নয়া দিগন্তের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিনে দেশসেরা লেখকরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনের নানা দিক পাঠকদের সামনে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার পাক সেনাদের নির্বিচার গণহত্যায় বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনগণ যখন দিশেহারা, তখন জাতির আলোর দিশারী হয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের পথচলা শুরু সেখান থেকেই। শহীদ জিয়ার অকুতোভয় ঘোষণা ও সামনে থেকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া, জনগণকে সেইদিন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ করতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ রাষ্ট্র শেখ মুজিবের দুঃশাসনে যখন আবারো অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে, সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আবারো জাতিকে পথ দেখান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়া নবীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীল ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। তার কর্মকৌশল ও বলিষ্ট নেতৃত্ব যুগ যুগ ধরে দেশপ্রেমিক জনতার প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দীর্ঘ সতেরো বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনে বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার জীবন ও কর্মকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ অপচেষ্টা ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের মানুষকে নিজেদের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দিয়ে ভারতীয় হেজিমনির তাঁবেদার জাতিতে পরিণত করার নীল নকশা। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এ দেশের তরুণ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে আবারো বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে পথচলার সুযোগ তৈরি হয়। তবে, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের দোসরদের নানামুখী ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় আছে।

রাষ্ট্রনায়ক ম্যাগাজিন দেশী-বিদেশী সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনতাকে সামনে এগিয়ে চলার রসদ জোগাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাষ্ট্রনায়ক জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে যেখানে নিতে চেয়েছিলেন, সেই বিষয়ে জানা এবং দেশকে তার দেখানো পথে এগিয়ে নিতে এ ম্যাগাজিন পাঞ্জেরীর ভূমিকা রাখবে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

প্রখ্যাত যেসব লেখকের লেখায় সমৃদ্ধ হয়েছে ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিন, তাদের নামগুলো উল্লেখ করা জরুরি মনে করছি। ম্যাগাজিনটির শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘দেশকে চিনতে হবে’। এর পরেই আছে শহীদ জিয়ার বড় সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা ‘আমার শিক্ষক’।

এরপর আছে ড. মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহ’র লেখা ‘জিয়া কেন অনন্য’। আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদান’। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখেছেন, ‘জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে’। নুরুল ইসলাম মনি লিখেছেন ‘স্মৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক জিয়া : ধুলোমাখা সেই দিনটি’। সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট মৃদু হেসে বললেন, হতাশ হয়েছেন কি’।

আরো লিখেছেন স্বনামধন্য লেখক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, মাসুমুর রহমান খলিলী, আব্দুল হাই শিকদার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মো: আখতারুজ্জামান, আবু রূশদ, ড. মাহদী আমিন, এ কে এম বদরুদ্দোজা, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আবু এন এম ওয়াহিদ, শায়রুল কবির খান, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফজলে এলাহী আকবর, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, সৈয়দ আলী আহসান, তালুকদার মনিরুজ্জামান, প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ, গিয়াস কামাল চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল গফুর, আসকার ইবনে শাইখ, সাদেক খান, ড. তারেক শামসুর রেহমান, নজরুল ইসলাম খান, কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আকবর হোসেন বীরপ্রতীক প্রমুখ।

কবিতা লিখেছেন আল মাহমুদ, মাহবুব হাসান, শাহাবুদ্দীন নাগরী, হাসান হাফিজ, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, জুবাইদা রহমান, হাসান আলীম, শাহীন রেজা, ফেরদৌস সালাম, আবু হেনা আবদুল আউয়াল, মুজতাহিদ ফারুকী, জাকির আবু জাফর, সায়ীদ আবুবকর, শান্তা মারিয়া, সৈয়দ রনো, শাওন আসগর, আফসার নিজাম, মিতা আলী, মোহাম্মাদ কুতুবউদ্দিন ও জিয়া হক।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরল সাক্ষাৎকার সম্পর্কে লিখেছেন ড. আলি নওয়াজ ও বজলুল করিম।

নয়া দিগন্তের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ম্যাগাজিনটি পড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কালজয়ী নেতা হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া জিয়ার জীবন ও কর্ম থেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অনুপ্রেরণা জোগাবে এ ম্যাগাজিন। দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে নয়া দিগন্তের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক।

লেখক : তরুণ সংবাদকর্মী