বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের আইনটি বাতিল করা হলো, যার আওতায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও তা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলেও তা কখনোই কার্যকর করা হয়নি।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান থাকায়, সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং জ্ঞানের অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির আলোকে এই খসড়া আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালের বিদ্যমান আইনের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। তাই সরকার আগের আইনটি সংশোধন না করে নতুন একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বগুড়া ও বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার মনে করে, এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিলের সাথে সংযুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার জন্য বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক। বাসস



