ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলে যাওয়ার কথা থাকায় অনেকেই একদিন আগেই ঢাকায় ফিরছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে কোনো ঝামেলা এড়াতে আগেভাগে যাত্রা করছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটের দৃশ্য
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটের দৃশ্য |সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। স্বজনদের সাথে টানা প্রায় সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে আগেভাগেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে করে যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার যাত্রীদের ভিড় কিছুটা কম থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। আগেভাগে ফেরার কারণে স্টেশন এলাকায় তেমন ভোগান্তি বা চাপ লক্ষ্য করা যায়নি।

এর আগে দীর্ঘ ছুটি পেয়ে ১৭ মার্চ থেকে ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে থাকে রাজধানী। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামমুখী হন হাজারো মানুষ। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ—সব ধরনের পরিবহনেই ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলে যাওয়ার কথা থাকায় অনেকেই একদিন আগেই ঢাকায় ফিরছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে কোনো ঝামেলা এড়াতে আগেভাগে যাত্রা করছেন।

ঢাকায় ফেরা একাধিক যাত্রী জানান, আগেভাগে ফেরার ফলে ভিড় এড়ানো গেছে। ট্রেনযাত্রা তুলনামূলক আরামদায়ক ছিল এবং স্টেশনে নেমেও তেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোর ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীরা জানান, এবারের লম্বা ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পেরে  খুশি তারা।

অন্যদিকে, ঈদের তৃতীয় দিনেও অনেককে রাজধানী ছাড়তে দেখা গেছে। সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। যারা ঈদের সময় বাড়ি যেতে পারেননি, তারা ছুটি কাজে লাগিয়ে পরে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। অনেকে আবার সড়কপথের যানজট ও ভোগান্তি এড়িয়ে নির্বিঘ্ন ভ্রমণের জন্য রেলপথ বেছে নিয়েছেন।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সময়সূচি ঠিক রাখতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদ-পরবর্তী ঢাকায় ফেরার যাত্রা এবার তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও ধীরে ধীরে আবারো ব্যস্ত হয়ে উঠছে রাজধানীর চিরচেনা কর্মজীবন।