মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসঙ্ঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) নতুন করে এক কোটি ৬৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের চুক্তি করেছে। ২০২৬-২০২৮ সাল পর্যন্ত এ অর্থায়ন করা হবে।
ইউএনএফপিএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নারী, কিশোরী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য বিভিন্ন সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ইউএনএফপিএ’র তৃতীয় বহুবর্ষী অর্থায়ন চুক্তি। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার দৃঢ় অংশীদারিত্ব ও অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
এমন এক সঙ্কটময় সময়ে অস্ট্রেলিয়ার এ সহায়তা এসেছে, যখন কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
নারী ও কিশোরীরা এখনো লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং প্রয়োজনীয় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সীমিত প্রাপ্তির মতো উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক মানবিক অর্থায়ন কমে আসা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, ‘ইউএনএফপিএ’র সাথে কাজ করতে পেরে অস্ট্রেলিয়া গর্বিত। এই বহুবর্ষী বিনিয়োগ আমাদের এমন মানবিক অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে, যা পূর্বানুমানযোগ্য ও নমনীয়- যা জীবন বাঁচায়, নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা দেয় এবং সম্প্রদায়গুলোকে বাস্তুচ্যুতি, অনিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত চাপ মোকাবিলায় সক্ষম করে।’
রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ইউএনএফপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রজনন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নারী-বান্ধব স্থান ও যুবকেন্দ্রের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংস্থাটি নারীদের জন্য নিরাপদ প্রসূতি সেবা, ধাত্রীসেবা, মানসিক সহায়তা, ধর্ষণের ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছা ও অধিকারভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা, ডিগনিটি কিট এবং ক্ষমতায়নের সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ববর্তী সহায়তায়, গত তিন বছরে ইউএনএফপিএ প্রায় তিন লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর নারী ও কিশোরীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে সাত হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মাতৃমৃত্যু কমাতেও এ সহায়তা ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন-কামকং বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই অবদান রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সময়োপযোগী ও কৌশলগত বিনিয়োগ। এ ধরনের অর্থায়ন এই বৃহৎ ও জটিল সঙ্কটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি জীবনরক্ষাকারী সেবা অব্যাহত রাখতে, পরিবর্তিত প্রয়োজনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে সহায়তা করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার এই অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছে- কোনো যেন নারী সহায়তা ছাড়া সন্তান জন্ম না দেয়, কোনো সহিংসতার শিকার ব্যক্তি সেবা ছাড়া না থাকে এবং কোনো কিশোর-কিশোরী উপেক্ষিত না হয়। এ সহায়তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
নতুন এ চুক্তি রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার জন্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ও পরবর্তী পরিকল্পনাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসাথে এটি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদারিত্ব পরিকল্পনা ২০২৫-২০৩০ এবং বৃহত্তর মানবিক অঙ্গীকারের সাথেও সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। বাসস



