শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করা, সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো, শুল্ক হ্রাস ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করার পাশাপাশি সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো এবং শুল্ক হ্রাসে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য সচিব পর্যায় এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভুটানের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ৯-১০ মার্চ ঢাকায় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের ১০ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় গঠিত যৌথ বাণিজ্য কমিটির প্রথম বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, বাস্তবায়নজনিত জটিলতা দূর এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।’
ভারতের সাথে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাফটা এবং এপিটিএ কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারত পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ বৈঠকে সিইপিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক আলোচনার সুবিধার্থে বাণিজ্য-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং উভয় দেশ অনুরোধ তালিকা বিনিময় করেছে। বর্তমানে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটির চতুর্থ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে মার্জিন অব প্রেফারেন্স এবং অফার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালও পিটিএ নিয়ে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং চতুর্থ দফা আলোচনা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।
এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মুক্তাদির বলেন, সাফটা প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে সার্কভুক্ত দেশগুলো ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে তাদের সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা ২০ শতাংশ কমিয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় ধাপে এ তালিকা আরো কমানোর কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সব পণ্যের জন্য তামাক ও মাদকজাত পণ্য ছাড়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে ভারতে এবং অন্যান্য সার্ক দেশের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে, ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। বাসস



