দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণের খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

‘বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৭ টন চাল, তিন লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ টন গম এবং দুই লাখ তিন হাজার ৬৬১ টন ধান মজুত রয়েছে, যা চালের হিসাবে মোট ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্যের সমপরিমাণ।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদ অধিবেশন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী (ইনসেটে)
সংসদ অধিবেশন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী (ইনসেটে) |সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী। একইসাথে খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়ম ও খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো: গোলাম রছুলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৭ টন চাল, তিন লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ টন গম এবং দুই লাখ তিন হাজার ৬৬১ টন ধান মজুত রয়েছে, যা চালের হিসাবে মোট ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্যের সমপরিমাণ।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দেশে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ খাদ্যশস্যের মজুত। আমাদের কৃষকরা পর্যাপ্ত ধান ও চাল সরবরাহ করতে পারছেন।’

খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করবেন এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, অতীতে খাদ্য সংরক্ষণে গাফিলতির কারণে বিভিন্ন স্থানে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরো পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মহিলা আসন-৩৯ এর বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ভেজাল খাদ্যের কারণে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভেজালবিরোধী অভিযান আরো কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। একইসাথে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভেজালবিরোধী কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে সুপারিশ দেবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কর্মপদ্ধতি প্রণয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সরকার যেভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে, তেমনি খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধেও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাসস