শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানালো জাতিসঙ্ঘ, বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভূমিকার প্রশংসা

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন গুতেরেস। নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

জাতিসঙ্ঘ আজ বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী। একইসাথে বৈশ্বিক শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটি।

প্রতি বছর ২৯ মে পালিত জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে জাতিসঙ্ঘ বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, সাহস ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরো বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের কাজ শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আরো জোরালো করেছে।’

দিবসটি উপলক্ষে দেয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। তারা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় তারা শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে তদারকি, নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে সহায়তা করছেন।’

গুতেরেস অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একইসাথে ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাদের মধ্যে গত বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন।

তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারো মৃত্যুই কাম্য নয়।’

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতিসঙ্ঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মহাসচিব।

মহাসচিব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। শান্তিরক্ষীরা যাতে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গুতেরেস বলেন, ‘শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন জানানো উচিত।’

জাতিস ঙ্ঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন গুতেরেস। নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে নিহত কর্মীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করবেন।

অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার। সূত্র : বাসস