তৌহিদ হোসেন

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রাজনীতি বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি

‘এস জয়শঙ্করের সাথে আমার যে কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। সবার সামনেই আলাপ হয়েছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় কিছু ছিল না।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন |ফাইল ছবি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফরে রাজনীতি বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এস জয়শঙ্করের সাথে আমার যে কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। সবার সামনেই আলাপ হয়েছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় কিছু ছিল না।’

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বলব, এটা সৌজন্যতা, যা সবাই বজায় রেখেছেন। কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রমাণ করে যে তিনি দেশে ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান অর্জন করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশে তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এক ধরনের পজিটিভ ইমেজ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে। তিনি নিজেকে যে অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তা আপনারা জানেন। দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের মাঝে তার প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল (বুধবার) খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। এছাড়াও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় সফর করেন। এ তালিকায় ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ।

গতকাল আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বিদেশী প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশে এসে সংহতি প্রকাশ করায় বিদেশী বিশিষ্টজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়াকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ইউএনবি